নিলামের গাড়ি নিয়ে প্রতারণা, বন্দরের তিন কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬


সকালের-সময় রিপোর্ট  ২০ নভেম্বর, ২০২০ ১২:৪৩ : পূর্বাহ্ণ

নিলামের জন্য রাখা আমদানি করা গাড়ি বিক্রির কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহিদুল ইসলাম সরকার নজরুল, মোবারক হোসেন সুমন, আনোয়ার হোসেন, নুরুল আবছার, রুহুল আমিন ও মো. ইউসুফ।

এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রতন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নুরুল আবছার চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগে গাড়ির শেডের সংশ্লিষ্ট জেটিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইউসুফও অস্থায়ী ভিত্তিতে একই জেটিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। আর রুহুল আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ ভিত্তিতে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামের মাধ্যমে একটি মাইক্রোবাস কেনার জন্য মানিকগঞ্জের শাহিনুর রহমান হালিম নামে এক ব্যক্তি তার বন্ধু রুবেলের মাধ্যমে মোবারক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মোবারক তাকে বলেন, তার মামা মহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী। তিনি কম দামে গাড়ি কিনে দিতে পারবেন।

গত ৮ জানয়ারি গাড়ি কিনতে শাহিনুর রহমান হালিম মোবারকের সঙ্গে চট্টগ্রাম আসেন এবং সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন, যাকে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন মোবারক।

সিআইডি কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ জানান, বন্দরের ভেতর গাড়ি দেখানোর জন্য ইউসুফকে ঠিক করেন মহিদুল। ইউসুফ, নুরুল আবছার ও রুহুল আমিনের মাধ্যমে শাহিনুর রহমান হালিমের এক বন্ধুকে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি মাইক্রোবাস দেখিয়ে আনেন।

গত ১২ জানুয়ারি গাড়ি কেনার জন্য সুমন ক্রেতা শাহিনুর রহমান হালিমকে নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের পেছনে যান। সেখানে আগে থেকে একটি প্রাইভেটকারে বসা সানোয়ারকে ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা দেন হালিম।

তিনি জানান, টাকা পাওয়ার পর সানোয়ার গাড়ির কাগজপত্র তৈরি করার কথা বলে সেখান থেকে সরে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর হালিম বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। পরে হালিম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ক্রেতার কাছ থেকে প্রতারণা করে ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের পর তা নিয়ে নগরীর জুবিলি রোডের একটি ঘরে বসে ভাগাভাগি করেন তারা। এর মধ্যে মোবারক দুই লাখ টাকা, মহিদুল এক লাখ ১০ হাজার এবং সানোয়ার বাকি টাকা নিয়ে নেন।

শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া সানোয়ার বা তার কথিত পিএ মহিদুল প্রতারক চক্রের সদস্য। বাস্তবে সানোয়ার এবং মহিদুল কেউই কাস্টমসে চাকরি করেন না। তারা প্রতারক। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। চট্টগ্রাম বন্দরের স্থায়ী-অস্থায়ী তিন কর্মচারী তাদের প্রতারক চক্রের সদস্য।

সানোয়ারকে ডবলমুরিং থানার একটি মামলায় আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এই মামলায় প্রথমে মহিদুলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে বাকি পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, হালিমের বন্ধু রুবেলের সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের পরিচয় ছিল। আবার আনোয়ারের সঙ্গে সুমনের পরিচয় ছিল। হালিমকে সুমনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য আনোয়ার ৫০ হাজার টাকা নেয়।

সুমনের সঙ্গে ইউসুফের পরিচয় ছিল। তার মাধ্যমে নুরুল আবছার ও রুহুল আমিনের পরিচয় হয়। হালিমের বন্ধুকে বন্দরের ভেতরে ঢুকিয়ে গাড়ি দেখানোর জন্য সানোয়ার দুই দফায় ইউসুফকে ৬৬ হাজার টাকা দেয় বলে জানান তিনি এই কর্মকর্তা।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ