বেতনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী কীভাবে শতকোটি টাকার মালিক হন


নিউজ ডেস্ক  ৩০ মে, ২০২৪ ১১:৩২ : অপরাহ্ণ

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিদায়ী বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ বলেছেন, সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কীভাবে কোটি কোটি, এমনকি শতকোটি টাকার মালিক হন? এ ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে।

বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিদায় সংবর্ধনায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন বিচারপতি হাফিজকে বিদায় সংবর্ধনা দেন।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আট সদস্যের আপিল বেঞ্চে বিদায়ী বক্তব্যে বিচারপতি হাফিজ বলেন, দুর্নীতি আমাদের সব অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্নীতির ব্যাপকতা অনেক। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাত থেকে অফিস-আদালতকে মুক্ত রাখতে হবে। রাষ্ট্রকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলে দেশ উপকৃত হবে। মানুষ অযাচিত বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।

দেশে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বিচারপতি হাফিজ বলেন, সময়ের বিবর্তনে অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে। এটা আমাদের সন্তানদের ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অভিভাবকদের বিভিন্নমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পারিবারিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি, দীর্ঘদিনের লালিত মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান ঘটেছে। মাদক, সামাজিক অনাচারসহ অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, হুমকি ও আশঙ্কার বিস্তার ঘটেছে। আর এগুলোই আমাদের টেকসই উন্নয়ন, শান্তি, প্রসারিত ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচারপতি হাফিজ বলেন, প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিচার বিভাগকে এর ভার বহন করতে হচ্ছে। এতে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। মিথ্যা মামলা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচারপতি হাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮২ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পরে স্থায়ী হন। গত মাসে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

আজ শুক্রবার তাঁর বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। তবে এ দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

এসএস/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ