বিষয় :

অবশেষে দুদকের জালে ফেঁসে যাচ্ছেন মিয়া জাহান


মোহাম্মদ ফোরকান ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১:২২ : পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশ) মিয়া জাহানের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক ( অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) মো: ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর সই করা ওই চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশ) মিয়া জাহানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পত্রাদি গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো: ফরিদ আহমেদ পাটুয়ারীর কাছে প্রেরন করার জন্য বলা হয়।

এ বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এদিকে মিয়া জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদকের চিঠি পাওয়ার পরও রেল ভবন মিয়া জাহানের বিরুদ্ধে কোন তদন্ত কমিটি গঠন না করায় রেল কর্মকর্তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশ) মিয়া জাহানের চাকুরীর মেয়াদ আগামী রবিবার ২৯ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু তিনি রেলের ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাত করে পার পেয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন বলে জানান সূত্রটি।

ক্যাটারিং সার্ভিসের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিয়া জাহান দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বনলতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের আওতায় বিরিয়ানি, কলা পাউরুটি, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি বিক্রি করে অবৈধ পন্থায় রেলের ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো: ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী জানান, দুদকের পক্ষ থেকে মিয়া জাহানের বিরুদ্ধে ক্যাটারিং বিক্রি করা সংক্রান্ত সরকারি আইন, বিধি বিধান, সার্কুলার, কোনো দরপত্র কোটেশন পক্রিয়ার মাধ্যমে বা বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব পরিচালনায় হয়ে থাকলে দরপত্র আহবান, কার্যাদেশ, বিল প্রদানসহ সকল রেকর্ড পত্রসহ বর্তমান মহাপরিচালকের সময়কালীন উল্লেখিত ক্যাটারিং এর জন্য বিক্রি বাবদ আদায় কৃত, সংগৃহীত অর্থ ও তা সরকারি কোষাগাড়ে জমা প্রদান সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপপত্র চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি মিয়া জানানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত বছরের ৫ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন রেলের একজন নিয়মিত যাত্রী নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার পার্বতীপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন। তখন এই অভিযোগের আলোকে সকালের-সময় ডট কম “মিয়া জাহানের হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’ ৭ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয় রেল ভবনে।

জসিম উদ্দিনের অভিযোগ পত্রে মোঃ মিয়া জাহানসহ এসিসিএম (পশ্চিম) আব্দুল জব্বার ও সিআই মোমিনুল ইসলাম মামুনসহ ব্যবস্থাপনায় ক্যাটারিং পরিচালনা করে বিভিন্ন স্টেশন থেকে নিম্নমানের খাবার বিক্রি করে রেলওয়ের সুনাম নষ্ট করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জানার জন্য অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশ) মিয়া জাহানের মোঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে প্রতিত্তরে তিনি জানান, এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। আমি কোন দুর্নীতি করিনি।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ