বিষয় :

ভুলত্রুটি সংশোধন করে দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে চাই–তথ্যমন্ত্রী


নিউজ ডেস্ক  ১৮ নভেম্বর, ২০২২ ৩:২৯ : অপরাহ্ণ

আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যা কিছু ভুলত্রুটি তা সংশোধন করে সবার সহযোগিতা নিয়ে দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন। আমাদের ভুলত্রুটি অবশ্যই ধরিয়ে দেবেন, কিন্তু অর্জনগুলো যেভাবে প্রচার হওয়া দরকার সেভাবে উপস্থাপনের জন্য নিবেদন রইলো।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে আগত পত্রিকা সম্পাদক, টিভি চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের প্রতি এ আহ্বান জানান দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যম সমাজকে সঠিক চিন্তা করতে সহায়তা করতে পারে, করে। গণমাধ্যম সমাজকে সঠিকখাতে প্রবাহিত করে, করতে পারে। আবার গণমাধ্যম যদি চেষ্টা করে সমাজকে ভুলবার্তাও দিতে পারে। আমরা চাই অবশ্যই আমাদের ভুলত্রুটি আপনারা তুলে ধরবেন।

একই সঙ্গে আজকে যে দেশটা বদলে গেলো, এ বৈশ্বিক মহামারি ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বমন্দার মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট যে দেশের প্রশংসা করে, সেটি অনেক সময় বড় আকারে পত্রিকায় আসে না। কিন্তু কেউ একজন নেতিবাচক কথা বললে দেখা যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় আকারে পত্রিকায় আসে, টেলিভিশনে উপস্থাপিত হয়। আমরা এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা চাই।

তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো সরকার দাবি করতে পারবে না অতীতে শতভাগ নির্ভুল কাজ করেছে বা ভবিষ্যতে করবে। আমাদের অবশ্যই ভুলত্রুটি আছে, কিন্তু সেই ভুলগুলোকে যদি অনেক বড় করে আর অর্জনগুলোকে যদি ছোট করে দেখানো হয়, তাহলে সমাজের সঠিক চিত্র পরিস্ফুটিত হয় না।

১৪ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন এবং তার ফলে আজকে বাংলাদেশ একটি নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে, খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গণমাধ্যমের সহায়তা চাই কারণ গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং গণমাধ্যমের সহায়তা ছাড়া বহুমাত্রিক, গণতান্ত্রিক, বিতর্ক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার ভিত গভীরে প্রোথিত হয় না। একটি কথা নিশ্চয়ই সবাই স্বীকার করবেন— এ দেশে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি চেতনার মূর্ত প্রতীক হচ্ছেন শেখ হাসিনা।

এ দেশে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালির চেতনা-সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশে তার কোনো বিকল্প নেই। দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির যদি ক্ষয় হয়, তাহলে কারা জায়গা করে নেবে সেটি আমাদের ভাবনায় রাখা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমের বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সাড়ে চারশ’ পত্রিকা ছিল এখন সাড়ে বারোশ’। ১০টি টেলিভিশন ছিল, এখন ৩৮টি সম্প্রচারে আছে, আরো কয়েকটি সম্প্রচারে আসার কথা।

অনলাইন গণমাধ্যমের এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ হয়েছে এবং শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন যেখান থেকে আমরা সাংবাদিকদের পাশাপাশি অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদেরও বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ