বিষয় :

আত্মহত্যা না হত্যা, তদন্তের পরেই বলতে পারবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


সকালের-সময় রিপোর্ট  ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ২:১৩ : পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গুলশানে কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইন ও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, আনভীরের বিদেশ যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে এই নামের কেউ বিদেশ যাননি।

গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ কর্তৃক ওই কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর তার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতি মাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান তাকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। নিয়মিত ওই বাসায় সায়েম যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো।

মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিলো। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এর বিচার চান তারা।

এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত। বুধবার (২৮ এপ্রিল) ধানমণ্ডির বাসভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানান, মামলার তদন্ত শেষে প্রমাণ মিললে যেই অপরাধী হবে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, ‘আইন আইনের মত করেই চলবে। এটা তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্তের পরই আমরা বলতে পারবো।

এদিকে, সুরতহাল প্রতিবেদনে আত্মহত্যার তথ্য রয়েছে, তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা রয়েছে কী না, তা যাচাই বাছাই করছে পুলিশ। ডিএমডি’র গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘বাসা থেকে ফুটপ্রিন্টসহ সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা সবগুলো বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত করছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হবে। এছাড়া ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ভিসেরা পরীক্ষাসহ সবকিছুই করা হচ্ছে।

মুনিয়া আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, বিষয়টি ক্লিয়ার হতে কিছু সময় লাগবে। আত্মহত্যা করে থাকলে মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করলো তার কারণও জানার চেষ্টা চলছে। যারা এখানে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণে কাজ করতেন এবং যারা সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন প্রত্যেককেই আদালতের মাধ্যমে বা ১৬১ ধারায় আমরা জবানবন্দি গ্রহণ করবো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মুনিয়া যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতো সেই অ্যাপার্টমেন্টের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে সর্বশেষ কে বের হয়েছে কিংবা ঘটনার দিন ওই বাসায় কারা গিয়েছিল বা বের হয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।

এগুলো যাচাই-বাছাই করতে কিছু সময় প্রয়োজন। এছাড়া মুনিয়া ও সন্দেহভাজনদের কল রেকর্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন সায়েম সোবহান ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) অভিযুক্তের বিদেশে যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। সেই সঙ্গে ৩০ মের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। তবে, এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিদেশ যাওয়ার খবর ছড়িয়েছে। যদিও ইমিগ্রেশন পুলিশ বলেছে সম্প্রতি এই নামের কেউ বিদেশ যায়নি।

ইমিগ্রেশনের এডিশনাল এসপি খুরশিদ জাহান বলেন, ‘আমাদের এদিক দিয়ে যায়নি। আর কার্গো বিমানের তো ইমিগ্রেশন হয় না। এখন এটা তো আমরা বলতে পারবো না। কার্গোর যারা ক্রু থাকে শুধু তাদের ইমিগ্রেশন হয়। পাসপোর্ট দিয়েও আমরা দেখেছি।

এদিকে, মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তার করা না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ