২০০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি, এস আলম সুগারের বিরুদ্ধে কাষ্টমস’র মামলা


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

প্রায় ২০০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চট্টগ্রাম কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় এক লাখ টন চিনির কাঁচামাল গুদাম থেকে পাচার করার মাধ্যমে এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।

কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন, চিনি তৈরি ও রিফাইন করার প্রায় এক লাখ টন কাচামাল বন্ড সুবিধায় আমদানি করে তা পাচার করেছে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চট্টগ্রামে বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষের তদন্তে এই ফাঁকি ধরা পড়ে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম কাষ্টমসকে আগামী ৩০ দিনের মধ্য এই জরিমানা আদায় করতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকির ১৯৮ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদের নামে। এস আলম গ্রুপের এই চেয়ারম্যান গত প্রায় দুই বছর ধরে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে তিনি একবারের জন্যও দেশে আসেনি।

বন্ড কমিশনারেট এর প্রতিবেদনে বলা হয়- বিভিন্ন সময়ে বন্ড সুবিধায় আনা ২৭টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন কাঁচামালের বন্ডিং মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর জন্য গেল ১৬ই আগস্ট আবেদন করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ।

১৯শে আগষ্ট সরজমিনে পরদির্শনে দেখা যায় কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের অগোচরে গুদাম থেকে প্রায় ৯৩ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যার শুল্ক করের পরিমাণ ১৯৮ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ টাকা। এ ঘটনায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলা করে বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট রাজস্ব ফাঁকির দায়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা—নং-৪৫/২০২১ দায়ের করে চট্টগ্রামের কাস্টমস্ বন্ড কমিশনারেট। এরপর ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। কাস্টম আইন ১৯৬৯ এর সেকশন ১১১ ধারায় দাবি নামাসহ কারণ দর্শানোর ওই নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব ও দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোম্পানির কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে—এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেট এর কমিশনার এ কে এম মাহবুবুল আলম জানান, যত বড় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন অনিয়মের ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

কাষ্টমসের নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে—প্রতিষ্ঠান থেকে কাস্টমস্ আইন ১৯৬৯-এর সেকশন ১৩, ৩২, ৯৭ এবং ১১১ এবং একই আইনের সেকশন ১৩ এর সঙ্গে পঠিতব্য বন্ডেড ওয়্যার হাউস লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০০৮ এর বিধিগুলো এবং লাইসেন্সি থেকে পালনীয় শর্তাবলির শর্তগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে
এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ।

যার কারণে—কাস্টমস আইন ১৯৬৯-এর সেকশন ১১১ মোতাবেক দাবিনামা জারিযোগ্য ও একই আইনের ১৫৬ (১) এর টেবিলের দফা ১৪, ১৫ এ, ৬২ এবং ৯০ এবং একই আইনের সেকশন-১৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কেন লাইসেন্স বাতিল—অর্থদন্ড আরোপসহ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না তার কারণ ব্যাখ্যা সম্বলিত লিখিত জবাব এ চিঠি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে কাস্টমস্ বন্ড কমিশনারেট চট্টগ্রামের দফতরে দাখিল করতে হবে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চর পাথরঘাটার ইছানগর এলাকায় অবস্থিত।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ