সুধীর সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা!


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:২০ : অপরাহ্ণ

পৃথিবীর যেসব দেশে সবচেয়ে বেশী সোনার ব্যবহার হয়, ছোট সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। মূল্যবান এই ধাতু চট্টগ্রামের হাজারী গলিতে ঢোকে বিচিত্র সব উপায়ে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন—নানা পন্থা অবলম্বন করে চোরাচালানীরা সোনা ভারতে পাচার করছে হাজারী গলির একটি সিন্ডিকেট। আইন অনুযায়ী সোনা পাচার এক অতি পুরনো অপরাধ। আকাশপথে আসা সোনা সীমান্তপথে চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরে যত সোনা ধরা পড়েছে, তার কয়েকগুণ বেশি সোনা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, সোনা পাচারের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রুট হচ্ছে এখন চট্টগ্রামের হাজারী গলি।

জানা যায়, সুধীর রঞ্জন ধর একজন হাজারী গলির চোরা ও অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী, তিনি-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, বার্মা, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সোনা প্রতিবেশী দেশে পাচারে চট্টগ্রাম হাজারী গলিকে নিরাপদ ও প্রধান ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘদিন।

তার ব্যাপারে সম্প্রতি হাজারী গলির সচেতন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে হুন্ডি ও দুর্ধর্ষ স্বর্ণ চোরাচালানকারী ও ইয়াবা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন—সুধীর রঞ্জন ধর ও তার গংরা রাষ্ট্রদ্রোহী, রাষ্ট্রবিরোধী হুন্ডি ব্যবসা, চোরা-চালান, ইয়াবা, জমির দলিল জাল-জালিয়াতি ও ভূমিদূস্যতাসহ সু-কৌশলে সরকারী কর পরিশোধ না করে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে সরকারের কোটি কোটি টাকা ফাঁকি দিয়ে আসছে এবং সাধারণ মানুষের সাথেও প্রতারণা করে আসছে।

এই সুধীর রঞ্জন ধরের নামে চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে ২০টির অধিক ফ্ল্যাট বাড়ি রয়েছে এবং হাজারী গলিতে ৫ এর অধিক স্বর্ণের দোকান রয়েছে। এবং তার সিন্ডিকেটের সকল সদস্যদের স্বর্ণ দোকান রয়েছে বিভিন্ন মার্কেটে এবং একেক জনের নামে বেনামে ৫ এর অধিক ফ্ল্যাট বাড়ি রয়েছে। তারা এইসব ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে স্বর্ণ চোরাচালানের কারবার করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের সাথে হাজারী গলির আরো ৬ জনের নাম উল্লেখ করেছেন হাজারী গলির সচেতন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। তারা হলেন— সুধীর রঞ্জন ধর, প্রদীপ ধর, (ওরফে গহনা প্রদীপ), মৃদুল দে, সজীব ধর, সুমন ধর, প্রদীর ধর (ওরফে সনি প্রদীপ)। বিশেষ করে সুধীর রঞ্জন ধর এই সিন্ডিকেটের প্রধান এবং তাঁরা হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালান ও ইয়াবা মাদক প্রতিনিয়ত অবৈধ ব্যবসা করছেন। তাদের সকলের বাসা ইউনিটি ভবন, ৩৪ জেএমসেন লেইন, রহমতগঞ্জ, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের প্রত্যেকের ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বারসাত শহরে বিশেষ করে সুধীর রঞ্জন ধরের ১০ তলা ভবনের বাণিজ্যিক মার্কেট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এবং ঔ ৬ জনের প্রত্যেকের ভারতে আ-ধার কার্ড ও রেশন কার্ড আছে বলে জানা যায়।

তাদেই এই কার্ড থাকায় ভারতে তাদের নির্বিঘে ব্যবসা করার অনেক সুবিধা রয়েছে। তারা সেই সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বর্ণ মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং কেজি কেজি স্বর্ণ তাদের বেতনধারী লোকের মাধ্যমে পাচার করেন। তারা দুবাই এবং বার্মা হইতে স্বর্ণেরবার ও ইয়াবা এনে সরাসরি ভারতে পাচার করে থাকেন এবং শত-শত কোটি টাকা হন্ডির মাধ্যমে পাচার করে আসলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরব ভুমিকা পালন করছেন।

উল্লেখ্য, তারা চট্টগ্রামের হাজারী গলিসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্বর্ণের চোরাচালান, হুন্ডি ও ইয়াবা ব্যবসার আড়াঁলে অবৈধ টাকা দিয়ে জায়গা জমি কিনে বেচা বিক্রি করেন এবং তাদের নিজেদের জন্যও বাড়ি করেছেন। প্রকৃত পক্ষে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী, রাষ্ট্র বিরোধী, দেশের শত্রু বটে।এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের বড় অর্থ জোগান দাতা বলেও খবর পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের জন্য সুধীর রঞ্জন ধরের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির পাশাপাশি তাদের সকল অবৈধ কালো টাকা ও সম্পত্তি সরকারের কব্জায় আনার জন্য মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম হাজারী গলির সচেতন সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আরো জানান, জামালখান সিঁড়ির গোড়ায় অবৈধ কাজের জন্য কেয়ারী সেন্টারের ৩ তলায়  একটি অফিসও নিয়েছেন তারা। ওই অফিস হইতে সবধরণের অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করেন সুধীর সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে জানার জন্য সিন্ডিকেট প্রধান সুধীর রঞ্জন ধরের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।

প্রিয় পাঠক—সুধীর রঞ্জন ধর ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরো একটি প্রতিবেদন থাকছে আগামী পর্বে, সাথে থাকুন।

সকালের-সময়/ফোরকান

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ