রাঙ্গুনিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি—লাগাম টানবে কে!


সকালের-সময়  ১০ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০১ : পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক সমলয়ে হাইব্রিড ধান চাষের ব্লক ও বিভিন্ন চাষাবাদের বীজতলা তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ কার্ড বিতরণ, ও হাইব্রিড ধান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন ৬নং পোমরা ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের অভিযোগ এই ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: আবদুল খালেক, ও রকিবুল আলম দুর্নীতির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নাজেহাল করে আসছে। উনারা ২ জন কৃষি কার্ড করতে গেলে কৃষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ক্ষেত্র বিশেষ ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযোগে তারা আরো উল্লেখ করেন, এইবার হাইব্রিড ধান বিতরণে ৫০ টাকা এবং কৃষি কার্ড বাবদ ২০০ টাকা নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ পোমরা এলাকার দরিদ্র কৃষকগণ কি ভাবে দুর্নীতি মুক্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবে তা নিয়ে হতাশায় দিন যাপন করছেন।

সুবিদাবঞ্চিত কৃষকরা বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু কৃষককে দুর্নীতিবাজ অফিসাররা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, আর যারা টাকা দিতে পারে না তাদেরকে তারা কোন সুযোগ সুবিধা দেয় না। যার কারণে রাঙ্গুনিয়ায় কৃষি কাজে তেমন কোন সফলতা আসছে না। আমরা দুর্নীতিবাজ এই অফিসারদের বিচার চাই।

এই ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: আবদুল খালেক, ও রকিবুল আলম সকালের-সময়কে বলেন, আমরা কিছু টাকা নিয়েছি সেটা ঠিক, তবে আমরা বেশি টাকা নেয়নি, হাজার পাঁচেক টাকা আমরা মাঠ পরিদর্শনে গেলে সব কৃষকরা মিলে দেয়। বেশি দুর্নীতি করেনি। এইসব বিষয়ে আমাদের স্যারদেরও টাকা দিতে হয়, আমরা একা খেতে পারিনা।

আবদুল খালেক আরো বলেন, আমরা কৃষকদের সাথে আলোচনা করে কিছু পরিবহন খরচ নিয়েছি। সেটা আমাদের স্যাররাও জানে।

জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের ৬৪টি জেলায় ৫০ একর করে জমিতে অধিক ফলনশীল হাইব্রিড বোরো ধানের চাষ করতে সমলয়ে ব্লক প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে। প্রতি জেলায় ব্লক প্রদর্শনীর ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ লাখ টাকা।

কিন্তু—রাঙ্গুনিয়া কৃষি কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চাষাবাদে বিভিন্ন কাজে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, সরকার কৃষি ও কৃষকদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিলেও সেগুলো থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

একাধিক কৃষক জানান, চাষের জন্য সব খরচ কৃষি অফিস বহন করার কথা বলে জমি নেয়। কিন্তু জমির চাষ ও পানির খরচ কৃষককেই বহন করতে হয়। আবার জমিতে ধান রোপণ খরচও কৃষককে বহন করতে হয়। মনে হয় আমরা মগের মুল্লুকে বসবাস করছি।

তারা আরো বলেন, বিভিন্ন মৌসুম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন বাবদ বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ, উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাদের নিকট থেকে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাঙ্গুনিয়া কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বছরের পর বছর উপজেলা কৃষি অফিসকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন।

কৃষকরা বলছে, চাষ করার জন্য বেশিরভাগ খরচই যদি তাদের বহন করতে হয়, তাহলে সরকারের দেয়া ১৪ লাখ টাকা কোথায় খরচ করছে তারা?

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দুই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মধ্যে মো: রকিবুল আলমকে সীতাকুণ্ডে বদলি করা হয়েছে। অপরজন মো: আবদুল খালেককে শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় পাঠক—রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের আরো দুর্নীতির খবর জানতে দ্বিতীয় পর্বে চোঁখ রাখুন…।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ