অসহায় স্থানীয় কাউন্সিলরসহ কর্তৃপক্ষ

ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে কাঁপাসগোলাই দেবে গেল সড়ক!


সকালের-সময়  ১৩ জানুয়ারি, ২০২২ ৮:২৩ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম চকবাজার-বহদ্দারহাট কাপাসগোলা সড়কের তেলিপট্টি মোড় সংলগ্ন আবাসিক হোটেল স্টার পার্ক। এর পাশেই রাস্তার ধারে সিডিএ’র নীতিমালা অমান্য করে চলছে ব্যক্তি মালিকানাধীন বহুতল ভবনের কাজ। কাজের সুবিধার্থে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ১৫ ফুট নালা কেটে সেখানে পানির পাইপ সংযুক্ত করে ভবন করছে বদিউল আলম।

তিনি—অবৈধভাবে নালা কাটার কারণে প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দেবে গেছে। রাস্তা দেবে যাওয়ার ফলে সরু হয়ে গেছে যাতায়াতের এই সড়কটি। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ও সাধারণ পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন প্রতিনিয়ত। আবার ঝুঁকি নিশ্চিত জেনেও দেবে যাওয়া সড়কে প্রতিদিন যাতায়াত করছে বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহন।

জানা যায়—গত ৪ জানুয়ারি ২০২২ ভবন মালিককে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একটি জরিমানার নোটিশ পাঠানো হলেও সেই নোটিশকে পাত্তাই দিচ্ছে না হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানকারবারীর শীর্ষ গডফাদার ভবন মালিক মো: বদিউল আলম ও তার ছেলে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ এরশাদ। একপ্রকার ভবন মালিকের দাপটে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন কিছুই করতে পারছেনা।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়—গত ২ জানুয়ারি ‘হাইরাইজ বিল্ডিং’র নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে নকশা জমা দিতে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ এর দপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়া হয় ভবন মালিক বদিউলকে। কিন্তু এরপরও দিন-রাত ২৪ ঘন্টা দাপটে চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ কাজ।

এছাড়াও— চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ৪ জানুয়ারি একটি নোটিশ দেওয়া হয়। এতে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং এই নোটিশে জরিমানা আদায় না করা পর্যন্ত বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ রাখার আদেশ জারি করেন কর্পোরেশন। কিন্তু ভবন মালিক সিডিএ এবং সিটি করপোরেশনের এই সব নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন—সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেস করে যোগসাজশে ভবন মালিক নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবনটির কাজ করতে চকবাজার বহদ্দারহাট সড়কের প্রায় ৫ ফুট অংশ মাটির নিচে দেবে গেছে। দেখা দিয়েছে গভীর ফাটল। যেকোনো সময় পুরো রাস্তা দেবে গিয়ে ভয়াবহ বিপদ ঘটতে পারে বলে জানান পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডিএর নোটিশকেও পাত্তাই দেননি ভবন মালিক। প্রতিদিন চলছে কাজ। সিডিএ পরিদর্শক টিম আসার খবর আগেই চলে আসে ভবন মালিকের কাছে। তখন কাজ বন্ধ রেখে ছিটকে পড়ে বদিউল ও তার ছেলে শ্রমিকরা। তারা চলে যাওয়ার পর আবার শুরু হয় কাজ। রাতেও কাজ চলে সমানতালে।

আরো জানা যায়, ভবন মালিক বদিউল আলম সিডিএ নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নালা কাটার কারণেই প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং প্রায় ৫ ফুট প্রশস্থের রাস্তা দেবে গেছে। এছাড়া দেবে যাওয়া সড়ক কৌশলে দখলে নেওয়ার কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরের গুরুত্বপূর্ণ চকবাজার থেকে বহদ্দারহাট সড়কে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে নির্মাণ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। এতে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যাথা ও নজরদারি নেই।

স্থানীয়রা জানান, ভবন মালিক অবৈধভাবে নালা কাটার কারণে সড়ক দেবে গেছে। সরু সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঝুঁকি নিয়ে সরু সড়কে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সরাসরি নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বদিউল আলমের সাথে কথা বলতে গেলে তার ছেলে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ এরশাদ প্রতিবেদকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। এবং এ বিষয়ে নিউজ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন, বদিউল আলম ভবন নির্মাণ করতে গেলে সড়কে ফাটল দেখা দেয়। এই বিষয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমিই প্রতিবাদ করেছি। এবং মাননীয় মেয়র মহোদয়ের সাথে এ বিষয়ে সরাসরি আলাপ করে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ জারি করেছি। কিন্তু তারা তা মানেনি।

প্রিয় পাঠক—বদিউল আলমের এত টাকার উৎস কি জানতে আগামী প্রতিবেদনে চোঁখ রাখুন।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ