বায়েজিদ বোস্তামি মাজারের সেক্রেটারিসহ ৪ প্রতারক দুদকের জালে


সকালের-সময় রিপোর্ট

২৯ জুন, ২০২১ ১:৪৮ : পূর্বাহ্ণ

আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (রা:) মাজার শরিফের পরিচালনা কমিটির সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীসহ চার প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

জানা যায়, মসজিদ ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ ও বিনা টেন্ডারে মসজিদের মালামাল বিক্রি করে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা অভিনব কৌশলে আত্মসাত করেন মাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সেক্রেটারী ও ডেভেলপার কোম্পানির লোকজন।

পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান করলে তাদের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। এর পর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা দাখিলের অনুমোদন করে কমিশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক জনসংযোগ মুহাম্মদ আরিফ সাদেক। এবং মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম।

দুদকের পক্ষ থেকে মাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সেক্রেটারি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- জেএমজি হোল্ডিং এস্টেট এন্ড ডেভেলপার কোম্পানির পরিচালক লাল মিয়ার পুত্র রফিকুল ইসলাম, জেএমজি হোল্ডিং এস্টেট এন্ড ডেভেলপার কোম্পানির পরিচালক আব্দুল মালেকের পুত্র ইয়াজ্জেম হোসেন রোমেন এবং অপর পরিচালক পারেছ মিয়ার পুত্র হারুনুর রশিদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃপক্ষ থেকে দেওয়া ১১টি শর্ত ভঙ্গ করে দোকান প্রত্যাশী ৫০ ব্যক্তির কাছ থেকে এককালীন পজেশন হস্তান্তর বিক্রি করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ডেভেলপার কোম্পানি দরপত্রবিহীন মসজিদের সাড়ে ১০ লাখ টাকার পুরাতন মালামাল বিক্রি করে দেয়-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

জানা যায়, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের তত্বাবধানে হযরত সুলতান বায়েজিদ (রহ:) দরগা শরীফের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৭ সালের ৩১ মে কয়েকশ বছরের জরাজীর্ণ দরগা মসজিদ ভেঙ্গে নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় দরগা পরিচালনা কমিটি।

তখন সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার পর অর্থ সংকটের কারণে এটির নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হলে সেখানে বিকল্প হিসেবে ডেভেলপার কোম্পানির সহযোগিতায় ভবনটির কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে সম্মতি জ্ঞাপন করেন মাজার কমিটি । ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে আবেদনও করে দরগা পরিচালনা কমিটি। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নকশা করাসহ ১১টি শর্তে অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল ওয়াকফ প্রশাসকের।

কিন্তু ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোদন পাওয়ার আগেই কোনো শর্ত না মেনে তড়িঘড়ি করে বায়েজিদ বোস্তামী (রা:) দরগা শরীফের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী এবং জেএমজি হোল্ডিং এস্টেট এন্ড ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করা হয়। যা সম্পূর্ণ নিয়মবর্হিভূতভাবে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামি মাজার ও ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও ডেভেলোপার কোম্পানি জে. এম জি হোল্ডিংস অবৈধ চুক্তির শর্ত সমূহ অভিন্ন রেখে পুনরায় আরেকটি রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি সম্পাদন করেন, পরে ডেভেলপার কোম্পানি কর্তৃক সরকারের ক্রয়-বিক্রয় নীতিমালা—পি.পি.আর এর আইন না মেনে পুরাতন মসজিদের মালামাল বিনা টেন্ডারে বিক্রি করে, যা বেআইনি ও অবৈধ।

দুদক জানায়, প্রস্তাবিত বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সময়ে দোকান বিক্রির লিফলেট ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম সালামি হিসেবে প্রতিটি দোকান বাবদ ২০ লাখ টাকার মূল্য হিসেবে প্রথম কিস্তিতে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৫০ জনের কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকা আদায় করেন এই প্রতারক চক্র।

এতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯, ৫১১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেএমজি হোল্ডিং এস্টেট এন্ড ডেভেলপার কোম্পানির পার্টনার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, ভয় লাগাইয়েন না, দুর্নীতি করেছি তো কি হয়েছে, আপনি যা পারেন লিখে দেন, আমি তা কোর্টে জবাব দিব।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ