পূর্ব রেলের কালো বিড়াল কে এই ডিএমই-ওয়াহিদুর রহমান!


সকালের-সময়  ৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৪:২৬ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্বাঞ্চল রেলের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার/লোকো (ডিএমই) মো. ওয়াহিদুর রহমান নিজ কার্যালয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠন করে আধিপত্য বিস্তার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এলটিএম পদ্ধতিতে রেলের মালামাল সরবরাহে কমিশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা ও তার সিন্ডিকেট। বাজার থেকে উচ্চ মুল্য দিয়ে কেনা হয় নিম্নমানের মালামাল যা ধরা পরার ভয়ে ল্যাবে পরীক্ষা ছাড়াই ব্যবহার করা হয়। তার এই সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি বছরই মোটা অংকের টাকা গচ্ছা যাচ্ছে সরকারি এই সেবামুলক প্রতিষ্ঠানটির। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন অভিযোগ তুলছেন সংশ্লিষ্ট দফতরেরই একাধিক ব্যক্তি।

তবে—সিন্ডিকেট এবং কমিশন বাণিজ্যটা একটা সিস্টেম?? আমি চাইলেও এটা বন্ধ করতে পারবনা বলে প্রতিবেদকে জানান মো. ওয়াহেদুর রহমান নিজেই। তিনি আরও বলেন কোন দফতরে অনিয়ম নেই জানতে পাল্টা প্রতিবেদকে প্রশ্ন করেন ডিএমই। ডিএমই অফিসের বিশ্বস্ত একটি সুত্রে জানা গেছে এখানে যারা মালামাল সরবরাহ করে থাকেন তাদের মধ্যে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বাইরে এখানে কেউ ব্যবসা করতে পারেনা।

ঠিকাদারদের এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাঝে রয়েছে গণি, মোর্শেদ, বাচ্চু, সুভাষ, মাহফুজ, মোস্তফা, জাহাঙ্গীর ও হালিম। সম্প্রতি ওই দফতরের ১ বছরের একটি কাজের তালিকা প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। যেখানে দেখা গেছে পুরো বছরের চাহিদার মালামালগুলো সরবরাহের জন্য উল্লেখিত ঠিকাদারদের একেকজনকে ২০ থেকে ২৫ টি আইটেম সরবরাহের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোন মালামালই ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়নি বলে অপর একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দফতরের একাধিক ঠিকাদার জানান—মালামাল সরবরাহ করতে হলে ১০ খেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় আবার বিল নেওয়ার সময়ও আরেক দফা ঘুষ প্রদান করতে হয় তার উপর ভ্যাট ট্যাক্স। অফিসারদের চাহিদা মোতাবেক কমিশনের টাকা না দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নাই এখানে।

আবার— কমিশন দেওয়ার পর ভাল মানের মালামাল দিয়ে লাভতো দুরের কথা গুনতে হবে লোকসান। তাই যারা মোটা অংকের কমিশন দিতে পারবে তারাই ব্যবসা করতে পারবে বাজারের নিকৃষ্টমানের মালামাল সরবরাহ করবে। ভাল মানের মাল কিনলে যেখানে ৫/১০ বছর টিকবে সেখানে তারা নিম্নমানের মাল দিলে বছর না যেতেই তা আবার কিনতে হয়। যার ফলে কমিশন খেকোদের সাময়িক লাভ হলেও পথে বসছে সেবামুলক এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী/লোকো (ডিএমই) মো. ওয়াহিদুর রহমান টেলিফোনে সকালের-সময়কে বলেন—সিন্ডিকেট এবং কমিশন বাণিজ্যটা একটা সিস্টেম, আমি চাইলেও এটা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আমি চেষ্টা করছি অনিয়ম আস্তে আস্তে কমিয়ে আনার জন্য। আপনি আমার সম্পর্কে খবর নিয়ে দেখতে পারেন আমার অনিয়ম তুলনামুলকভাবে অনেক কম। সিন্ডিকেট আগে আরো স্ট্রং ছিল আমি কিছু সংযোজন বিয়োজন করেছি। আমার উপর বিভিন্ন চাপ আছে আমি চাইলেও সমস্ত অনিয়ম বন্ধ করতে পারবনা।

এ ব্যপারে জানতে পুর্বাঞ্চল রেলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন- সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য করার কোন সুযোগ নেই এখানে, তারপরও যদি অনিয়ম খুজে পাই তার ব্যাপারে যথাযত ব্যবস্থা নিব।

প্রিয় পাঠক-ওয়াহিদুর রহমানের অনিয়ম দুর্নীতির আরো খবর জানতে আগামী পর্বে চোখ রাখুন।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ