ডিসি অফিস ডিসি হিলে সরিয়ে নেয়া হোক—আইনজীবী সমিতি


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২:১৮ : পূর্বাহ্ণ

অবৈধ স্থাপনা ইস্যুতে জেলা প্রশাসনের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি ও সেবা সংস্থার সাথে চিঠি চালাচালির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। গত বুধবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে কোর্ট হিল থেকে ডিসি অফিস ডিসি হিলে বা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হোক।

এডিএম কোর্ট ব্যবস্থা বাতিল করে ১৪৫ ও ১৪৭ ধারার মামলা ও মামলার বিচার পরিচালনার কাজ জুডিশিয়ারিতে দেওয়া হোক। এছাড়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আইনজীবীদের চেম্বার সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত দুটি ভবনের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

বৈধ ভবনকে অবৈধ বলে এবং সাধারণকে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ক্ষতিপুরণ চেয়ে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এছাড়া বিষয়টি ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সাধারণ সভায় সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৮শ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মো. এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন।

বক্তারা বলেন, কোর্ট হিলে কোর্ট, আইনজীবী, আইনজীবী ভবন সবই থাকবে। আমরা বৈধভাবে আছি। কোর্টের জন্যই পাহাড়টিকে সাজানো হয়েছে। ডিসি অফিস এখানে ছিল না। ডিসি তো আমাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। প্রয়োজনে ডিসি অফিস ডিসি হিলে স্থানান্তর করা হোক। আমাদের উপর জেলা প্রশাসকের ফের অবৈধ হস্তক্ষেপ মেনে নেব না। উচিত জবাব দেওয়া হবে। আইনজীবী সমাজের স্বার্থে আঘাত লাগলে তা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা হবে। আমাদের যদি সহ্য করতে না পারেন স্বেচ্ছায় অন্যত্র চলে যান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির সদস্য মো. মুজিবুল হক, সমিতির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, এএসএম বদরুল আনোয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনতোষ বড়ুয়া, অশোক কুমার দাশ, মো. আবদুর রশীদ, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আইয়ুব খান, এমএ নাসের চৌধুরী, কাজী মোহাম্মদ নাজমুল হক, মুহাম্মদ কবির হোসাইন, আবদুস সাত্তার, রফিক আহমদ, আকবর আলী, মোহাম্মদ তৈয়ব কিরণ, জাফর ইকবাল, আনোয়ার হোসেন আজাদ, মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও হোসেন মো. আশরাফ উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, ২ সেপ্টেম্বর কোর্ট হিলে থাকা তিনশর উপর স্থাপনাকে ঘিরে জেলা প্রশাসন একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর আগে ২৯ আগস্ট পিডিবি ও ওয়াসাকে চিঠি দেওয়া হয়। কোর্ট হিল এলাকায় সরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহ ব্যতীত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ প্রদান না করতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে ৮ আগস্ট সিডিএকে চিঠি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তি ও চিঠি চালাচালির এসব বিষয় মেনে নিতে পারেননি আইনজীবীরা। ১ সপ্তাহ ধরে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আইনজীবী নেতারা বলছেন, চলাচলের রাস্তা দখল করতে না দেওয়ায় জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে গেছে। ২০১৯ সালে সাবেক প্রশাসকও একই কাজ করেছিলেন। সে সময় একটি ব্যাংকে বুথ বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আমাদের এবারের বিরোধিতার মতো সেবারও তারা সফল হতে পারেননি।

জেলা প্রশাসন কর্তৃক কোর্ট হিলের অবৈধ স্থাপনার তালিকা চেয়ে করা চিঠির জবাব ১৭ আগস্ট দিয়েছে সিডিএ। এতে বলা হয়, কোর্ট হিলে থাকা আইনজীবীদের ভবন বা স্থাপনাগুলো অনুমোদিত। তবে কোর্ট হিলের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের চতুর্দিকে এবং জহুর হকার মার্কেটের দক্ষিণাংশে সেমিপাকা স্থাপনা রয়েছে। ওইসব স্থাপনায় বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং কয়েকটিতে গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে।

এসব স্থাপনা করার আগে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসন থেকে ভাড়া বা লিজ গ্রহণ করে তারা বর্তমানে দখলে আছেন এবং নিয়মিত জেলা প্রশাসন বরাবর ভাড়া পরিশোধ করেন। মৌখিক আলাপে স্থাপনাসমূহে বসবাসরতরা এসব জানিয়েছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে বৈধ পাকা ভবনের মধ্যে রয়েছে আদালত ভবন, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশন ও আইনজীবীদের ভবন।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ