জেলা পুলিশের থানা ভেঙে নতুন ৪ থানা যুক্ত হচ্ছে সিএমপিতে


নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ জুন, ২০২২ ১২:৪৮ : পূর্বাহ্ণ

১৬ থানা নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) যখন নতুন আরও চার থানার কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায়। সেই সময়ে নতুন করে চারটি থানা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে সিএমপি। নগরের নিকটবর্তী জেলা পুলিশের আওয়তাধীন তিনটি থানার বেশ কিছু অংশকে নিজেদের আওতাভুক্ত করতে চায় সিএমপি।

এসব এলাকায় নতুন করে চারটি থানা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে। যদিও ১৬ থানা নিয়ে চলা সিএমপিতে শিগগরিই শুরু হবে নতুন করে আরও চার থানার কার্যক্রম। এ নিয়ে ২০টি থানার পাশাপাশি জেলা পুলিশের থানা ভেঙে নতুন করে চারটি থানা যুক্ত হলে সিএমপিতে মোট থানার সংখ্যা দাড়াবে ২৪ টিতে।

সিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন— জেলা পুলিশের থানা থেকে দূরত্বের কারণে নগরের কাছাকাছি এলাকার যেসকল মানুষ পুলিশের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মূলত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নতুন চারটি থানা জেলা থেকে সিএমপির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়তন বাড়িয়ে নতুন চারটি থানার গঠনের বিষয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন এই প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যাচাই বাছাই শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রশাসনিক পুনবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) পাস হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে থানার কার্যক্রম।

সিএমপিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার থানা প্রস্তাবিত সিএমপির চার থানাগুলো হচ্ছে— হাটহাজারীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও মদুনাঘাট থানা, সীতাকুণ্ডর ফৌজদারহাট থানা এবং পটিয়ার কালার পোল থানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটহাজারী থানার ১৩ নম্বর দক্ষিণ মাদার্শা, ১৪ নম্বর শিকারপুর, ১৫ নম্বর বুড়িশ্চর ইউনিয়ন নিয়ে মদুনাঘাট থানা।

একই থানার অধীনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ১১ নম্বর ফতেপুর ও ১২ নম্বর চিকনদণ্ডী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা।

সীতাকুণ্ড মডেল থানা এলাকার ৮ নম্বর সোনাছড়ি, ৯ নম্বর ভাটিয়ারি ও ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত হবে ফৌজদারহাট থানা।

পটিয়া থানাধীন ৪ নম্বর কোলাগাঁও, ৫ নম্বর হাবিলাসদ্বীপ, ৬ নম্বর কুসুমপুরা ও ৭ নম্বর জিরি ইউনিয়ন নিয়ে কালারপোল থানা।

ইতোমধ্যে জনপ্রশসান মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, সিএমপির উত্তর বিভাগে ‘মোহরা থানা’, পশ্চিম বিভাগে ‘কাট্টলী থানা’, বন্দর বিভাগে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল উত্তর থানা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু টানেল দক্ষিণ থানা’। শিগগরিই এসব থানার কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।

জানা যায়–৩০ হাজার ৪,৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনজুড়ে চট্টগ্রাম মহানগরে ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের আওতায় ছয়টি থানা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছিল সিএমপি। বর্তমানে ৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনজুড়ে সিএমপির কার্যক্রম বিস্তৃত। গত ২০০০ সালে থানার সংখ্যা আরও ছয়টি বাড়িয়ে ১২টিতে উন্নীত করা হয়।

সর্বশেষ ২০১২ সালে মহানগর এলাকায় আরও চারটি নতুন থানা স্থাপনের মাধ্যমে মোট ১৬টি থানায় বিভক্ত হয়ে সিএমপির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এতোদিন। এরপর থেকে নানা সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কখনো আলোর মুখ দেখেনি। চট্টগ্রাম মহানগরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে আনুমানিক ৭৫ লাখ মানুষের বসবাস হলেও সেই সাত হাজার পুলিশ সদস্যকেই সামলাতে হচ্ছে পুরো নগরের নিরাপত্তা। এরমধ্যে নগরের বাইরে কর্ণফুলী উপজেলাকেও সামলাতে হয় সিএমপিকে।

সিএমপির চার বিভাগের অধীনে পরিচালিত থানাগুলো হচ্ছে— উত্তর বিভাগে, চান্দগাঁও, খুলশী, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ। দক্ষিণ বিভাগে, কোতোয়ালী, বাকলিয়া, চকবাজার ও সদরঘাট। পশ্চিম বিভাগে, পাহাড়তলী, হালিশহর, আকবর শাহ ও ডবলমুরিং। বন্দর বিভাগে বন্দর, পতেঙ্গা, কর্ণফুলি ও ইপিজেড থানা। এরবাইরেও চার বিভাগে ভাগ হয়ে ডিবি, এসবি, পিএমও, ট্রাফিক, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের মত বিভাগগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ