চন্দনাইশের কোটিপতি জসিম’কে গ্রেপ্তারের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ মে, ২০২৪ ১:০৬ : পূর্বাহ্ণ

ঋণখেলাপি মামলায় সাজা পাওয়া জসিম উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রোববার অর্থঋণ আদালতের জজ মুজাহিদুর রহমানের আদালত এ নির্দেশ দেন। আগামী বুধবার এ উপজেলায় নির্বাচন হবে।

অর্থঋণ আদালত বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম বলেন, পদ্মা ব্যাংকের ৮৯ কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলায় গত ৩০ এপ্রিল আদালত জসিম উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারি থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না। ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চন্দনাইশ থানার ওসি ওবায়দুল ইসলামের ফোনটি ধরেন পরিদর্শক (তদন্ত) জশ চাকমা। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ এখনও পাইনি। ওসি স্যারকে বিষয়টি জানানো হবে।

আদালতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় পদ্মা ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ৬০ কোটি ও সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও খেলাপির ঘরে তিনি লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে পদ্মা ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে জেসিকা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার জসিম উদ্দিন ৬০ কোটি টাকা ঋণ নেন। এক বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করার চুক্তি থাকলেও আট বছরে তা করেননি।

২০২২ সালে সম্পূর্ণ সুদ মওকুফ সুবিধা নিয়ে তিনি ওই ঋণ পুনঃতপশিল করেন। তার পরও পরিশোধ না করায় ওই ঋণ সুদাসলে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে নগরের লালদীঘি এলাকার ১৬ দশমিক ৫৯ শতক জমির ওপর নির্মিত সাত তলা মহল মার্কেট তিনি ব্যাংকের কাছে জামানত রেখেছেন।

ঋণ শোধ না করায় ২০২০ সালের ১৮ জুলাই জসিমের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে পদ্মা ব্যাংক। ওই মামলায় গত ২৯ জানুয়ারি জসিমকে সুদসহ ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। এর পরও ঋণ শোধ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল তাঁর বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ আসে আদালত থেকে। আদালত তাঁর দুটি গাড়ি, নগরের দক্ষিণ খুলশীর বাড়ি ‘জসিম হিল পার্ক’, পাথরঘাটা এলাকার ছয়তলা ‘মফজল টাওয়ার’ ও চন্দনাইশের একটি ডুপ্লেক্স ভবন ক্রোকের আদেশ দেন। পরে ৩০ এপ্রিল এ মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়।

এসএস/ফোরকান

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ