চট্টগ্রাম নগরীর ৩ বাড়ি লকডাউন, চাপা আতঙ্কে এলাকাবাসী


সকালের-সময় রিপোর্ট ২৬ মার্চ, ২০২০ ৩:২৮ : পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস আক্রান্ত নারীর অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম শহরের কালামিয়া বাজার ছৈয়দশাহ রোডের হাসনাহেনা স্কুলের পাশে মো: সাত্তারের বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। এই বাড়িটি লকডাউনের পর সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাপা আতঙ্ক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দীন।

লক ডাউন হওয়া অন্য বাড়িটি হলো নতুন চাঁন্দগাও আবাসিক এলাকার ৭ নম্বর রোডের ৬৪ নম্বর বাসা। এটি সকালের-সময়কে নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার। তিনি বলেন, এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। এবং লকডাউনে যাওয়া সেই বাড়ির বাসিন্দাকে সব রকমের সহযোগিতা আমরা করবো। তাকে সেই মোতাবেক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লকডাউন হওয়া আরেকটি বাড়ি হলো খুলশী আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডের একটি ভবন। যা বিকালেই লকডাউন করা হয়। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জাপানি নাগরিক আকিরো সাইতো হোম কোয়ারেন্টিইন না মেনে কর্মস্থলে যাতায়াত করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সকালের-সময়কে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী।

জানা যায়, করোনা আক্রান্ত একজন নারীর সাত ছেলেমেয়ে। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর একজন ছাড়া সব ছেলেমেয়েই তার সাথে দেখা করতে বাসায় এসেছিলেন। এ কারণে এলাকাবাসীর আশঙ্কা করোনা আক্রান্ত নারীর গমনস্থল ও তার সংস্পর্শে আসা মানুষরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। যা অনিরাপদ করে তুলেছে চট্টগ্রাম শহরকে।

কক্সবাজারে করোনা-ভাইরাসে আক্রান্ত মহিলা চট্টগ্রামে তার এক ছেলের বাসায় ছিলেন। কিন্তু অপর ছেলের বাসায় তিনি ছিলেন না। ওই ছেলের পরিবারের সদস্যরা এসে মাকে দেখে গিয়েছিল। তাই প্রশাসন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার সংলগ্ন চান্দগাঁও আবাসিক ও বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার সৈয়দ শাহ রোডের বাড়িটি লকডাউন করে।

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার ৭৫ বছর বয়সী এক নারী ওমরাহ করে দেশে ফেরেন ১৩ মার্চ। দেশে ফিরেই তিনি চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার সংলগ্ন সিডিএ আবাসিক চান্দগাঁওয়ে ছেলের বাসায় ওঠেন। এরপর ১৪ মার্চ খুটাখালীর নিজ বাড়ি যান ওই নারী।

কিন্তু ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কক্সবাজার শহরে নেয়া হয়। ওইদিন তিনি শহরের টেকপাড়ায় বড় ছেলে বাসায় ওঠেন এবং জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই রোগীকে ১৮ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার অসুস্থতা দেখে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২২ মার্চ পাঠান রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ওই নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার সংলগ্ন চান্দগাঁও আবাসিকের ভবনটিতে করোনা আক্রান্ত ওই নারী ও তার ছেলে একসঙ্গেই অবস্থান করেন। এছাড়া তার আরেক ছেলের বাসা নগরের কালামিয়া বাজার এলাকায় হলেও ওই নারী সেখানে যাননি। তবে ওই ছেলে মাকে দেখতে আসেন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের বাসায়। তাই প্রশাসন কালামিয়া বাজার সৈয়দ-শাহ রোডের বাড়িটিও লকডাউন করেছে।

সূত্রমতে, বৃদ্ধ ওই নারী সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের সব বাড়ি ইতিমধ্যে লক ডাউন করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে। নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজারের দুটিসহ মোট পাঁচটি বাড়ি লক ডাউন করা হয়।

সকালের-সময় / এম এফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ