ফুরফুরে মেজাজে তামিম বাহিনী, লজ্জা এড়াতে চায় শ্রীলঙ্কা


সকালের-সময় স্পোর্টস ডেস্ক  ২৮ মে, ২০২১ ১১:৩৩ : পূর্বাহ্ণ

এক ম্যাচ রেখেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডে ৩৩ রানে ও দ্বিতীয়টি বৃষ্টি আইনে ১০৩ রানে জিতে তামিম বাহিনী। সিরিজ জয়ের পাশাপাশি আইসিসি বিশ্বকাপ সুপার লিগে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেও উঠেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জিতে এখন ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বাংলাদেশ।

আজ ঘরের মাঠে শেরেবাংলায় বেলা ১টায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশেই দৃষ্টি টাইগারদের। ২০১৫ সাল থেকে ১১টির মধ্যে এই নিয়ে ১০ বার সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের কাছেই একমাত্র সিরিজ হার বাংলাদেশের। সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচের গুরুত্ব কিছুটা কম। কিন্তু ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে উভয় দলের জন্য ১০ পয়েন্টের গুরুত্ব অনেক বেশি।

বাংলাদেশের জন্য এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরের সিরিজটি বিদেশের মাটিতে হবে। আর বিদেশের মাটিতে টাইগাররা বরাবরই দুর্বল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে খুশি নয় বাংলাদেশ দল। অনভিজ্ঞ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেয়ার উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ।

দুই সিনিয়র খেলোয়াড় অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সহায়তায় প্রথম দুই ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মুশফিকুর রহীম। দু’বারই বাংলাদেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ৮৪ ও দ্বিতীয়টিতে ১২৭ বলে ১২৫ রান করেন মুশফিক।

বল হাতে দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। সম্প্রতি আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বোলারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন মিরাজ। সর্বশেষ দুই সিরিজ মিস করা সাকিব আল হাসান দলে ফিরে এখনো নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। দুই ম্যাচে পেয়েছেন ৩ উইকেট।

তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে আর একটি উইকেট পেলে নতুন দু’টি রেকর্ড যোগ হবে সাকিবের ঝুলিতে। প্রথমত, বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফির সর্বোচ্চ ২৬৯ উইকেটকে ছাড়িয়ে যাবেন। দ্বিতীয়ত, একই ভেনুতে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের ১২২ উইকেটকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

তবে টাইগারদের পথচলায় পিছুটান লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, তাসকিন আহমেদ ও সাইফুদ্দিনের মতো খেলোয়াড়রা, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হাল ধরবেন। ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে সুযোগ হয়নি মিঠুনের। তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েও মেলে ধরতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন।

গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রান করা লিটন ফর্মহীনতায় ভুগছেন। শেষ ৮ ম্যাচে এসেছে মাত্র ৯১ রান। এর মধ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫ রান তার সর্বোচ্চ। শেষ ওয়ানডের জন্য দলে নেয়া হয়েছে নাইম শেখকে।

এতে লিটনের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিকে তৃতীয় ম্যাচে সতীর্থদের কাছে সেরা পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘সিরিজ জয়ে খুশি, তবে এখনো আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। আশা করছি, পরের ম্যাচেই ছেলেরা ভালোভাবে ফিরে আসবে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে সমর্থ হবে। আমাদের প্রতিটি পয়েন্ট জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাটিংয়ে সব সময়ই দলের বড় ভরসার নাম মাহমুদুল্লাহ। মাঝখানে ফর্মটা একটু নড়বড়ে হয়ে উঠলেও আবারো নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দু’টি ম্যাচেই দলের জয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

ব্যাটিং নিয়ে রিয়াদের ভাষ্য, সঠিক সময়ে দলের জন্য অবদান রাখাটা জরুরি, ৬ নম্বরে যেহেতু ব্যাটিং করছি। ইনশা আল্লাহ আগামীকালও (আজ) সুযোগ পেলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। মিডল অর্ডারের পরে যারা ব্যাট করতে আসেন তারাও যথেষ্ট পারদর্শী। কাজে লাগানোটা জরুরি।

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে সফরকারীরা। ওয়ানডেতে ৫০ ম্যাচে ৩৯টিতে জিতেছে তারা। গত দুই ম্যাচ মিলিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৯টি। বাকি দু’টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দাপট দেখানোর পর থেকে তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ৯টি। এ দিকে বাংলাদেশের স্পিন নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করছেন শ্রীলঙ্কার কোচ মিকি আর্থার। তারা নাকি বুঝতেই পারছেন না স্বাগতিকদের স্পিন।

অনুশীলনে স্পিন ভালোভাবে সামলালেও ম্যাচে হচ্ছে ব্যতিক্রম। মিকি আর্থারের ভাষায়, ‘স্পিনারদের সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটি আমার জন্য বিস্ময়কর। নেটে যে ব্যাটসম্যানদের দেখি, ম্যাচে তাদের চেহারা ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। চাপের মধ্যে পারফরম্যান্সের ব্যাপার হোক বা ব্যর্থ হওয়ার ভয়।

এ ধরনের ব্যাপারগুলো মাথা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ওরা সবাই দক্ষ ব্যাটসম্যান, বিশেষ করে স্পিনের বিপক্ষে। এখানে এখনো সেটির প্রমাণ দিতে পারেনি। তবে আগামীকাল (আজ) নিশ্চিত সেটা প্রমাণ করবে।

শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে চায় শ্রীলঙ্কা। গত দুই ম্যাচে ভালো অবস্থায় থেকেও, অভিজ্ঞতার অভাবে লড়াই করতে পারেনি। এমনটিই মনে করেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল পেরেরা। এটি খুবই হতাশার।

অভিজ্ঞতার অভাব আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। দুই ম্যাচেই মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা আমাদের ভুগিয়েছে। খেলোয়াড়দের নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ও বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ