পেঁয়াজ নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড..

খাতুনগঞ্জে-পেঁয়াজ নিয়ে ভাওতাবাজি, ক্রেতাদের সঙ্গে মিথ্যাচার: ক্যাব


সকালের-সময় রিপোর্ট  ২০ নভেম্বর, ২০২০ ৩:৩০ : অপরাহ্ণ

নিজেরাই পেঁয়াজের কারসাজি করেই এবার লোকসানে পড়েছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের নিত্য-নতুন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। এবার চোখের জলে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠছে তাদের। মূলধন হারানোর আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারকের মুখে এবার কালো ভাজ পড়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সকালের-সময়কে জানান, পচে যাওয়ার কারণে নষ্ট, দামে বাজার ধস নামার কারণে পেয়াজ বস্তায় বস্তায় খালে ফেলে দিয়েছি। এখন ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। কেন আপনারা দেউলিয়া হবেন, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি এই ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের লোকসান ও পুঁজি হারানোর বিষয়কে ভাওতাবাজি-ক্রেতাদের সঙ্গে মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তারা ৫০ পয়সা কমিশনে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছেন। বাজার উত্থান-পতন বা লাভ-লোকসানের সঙ্গে জড়িন নন তারা। এখন রাতারাতি কিভাবে তারা আমদানিকারক হয়ে গেলেন। লোকসান গুনে, পুঁজি হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এটা পুরোটাই ভাওতাবাজি। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ও মিথ্যাচার করছেন।

দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতিটি আড়ত ও দোকানে পেঁয়াজে ঠাসা। বস্তায় বস্তায় পেঁয়াজ ট্রাক-ভ্যানে আনা-নেয়া চলছে। বেশির ভাগ বস্তা ফুঁড়ে বীজ বের হয়ে গেছে। তারপরও দাম ধরে রাখছেন তারা। আড়ত ও দোকানের সামনে এলোমেলো ভাবে রাখা হয়েছে পেঁয়াজের বস্তা। ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বিকল্প দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) নেয় নিত্য-নতুন আমদানিকারকেরা।

গত বছর ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর দেশীয় বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড ঘটেছিল। কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তখন আমদানিকারকেরা বেশ লাভবান হয়েছিল। দেশে তারা হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি করেছিল। এখনো সেই ব্যবসায়ীরা নিত্য-নতুন ফন্দি করে আবারো অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, নিউজিল্যাণ্ড, হল্যাণ্ডের কয়েকটি দেশ থেকে কাছাকাছি সময়ে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি আমদানি করা পেঁয়াজ স্বল্প মূল্য বাজারে না ছেড়ে বেশি লাভের আশায় পেঁয়াজ গোডাউনে-গোডাউনে আটকিয়ে রেখে অস্থির করেছিল দেশ-বাসীকে।

বিশিষ্টজনরা জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৭শ ৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এছাড়া অনুমতি (আইপি) নেয়া হয়েছে আরও ২ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ মেট্রিক টন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত ২০ অক্টোবর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা দরে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। মিয়ানমারের ভালমানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৭০-৭৫ টাকা দরে। তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে। নিম্ন ও মধ্যমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা দরে।

পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৬৫-৭০ টাকা দরে। তা বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। তুরস্কের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা। তা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৩ টাকায়। মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৬৫ টাকায়। তা বিক্রি হচ্ছে ২৩-২৫ টাকায়। ইরানি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫০ টাকা দরে। তা বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। নিউজিল্যাণ্ডে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫০ টাকায়। তা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। হল্যাণ্ডে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল মানভেদে ৫০-৬০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকা দরে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীরা জানান, দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাছাড়াও নষ্ট হয়ে যাওয়া পেঁয়াজ বস্তাপ্রতি একশ ও দেড়শ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। বিক্রির অনুপযোগী পেঁয়াজ ডাস্টবিন ও খালে ফেলে দিতে হয়েছে। এ কারণে অনেক আমদানিকারক পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এতে আপনাদের কোনো কারসাজি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ীরা আর কোনে সদুত্তর দিতে পারেনি।

প্রসঙ্গত: গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এ ঘোষণার পর দেশীয় বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে হুলস্থুল শুরু হয়।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ