ক্রেতাদের জিম্মি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো অযোক্তিক: ক্যাব


সকালের-সময় রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:০২ : অপরাহ্ণ

পাইকারিতে কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে চড়া রয়েছে পেঁয়াজের বাজার। পাশাপাশি আদার দামও বাড়তির দিকে রয়েছে। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুইদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে।

তবে খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। গতকাল খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুইদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২-৩ টাকা কমে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়। এছাড়া মিয়ানমারের আদা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। অপরদিকে চীনা আদা কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০টাকায়।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন সেখানকার বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাবে সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ রুপিতে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে বেড়েছে বুকিং দরও। প্রতি মণে বুকিং দর বেড়েছে ১০০ ডলারের বেশি। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজের বুকিং দর ৩৫০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত।

নতুন চাক্তাইয়ের মেসার্স আফরা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আলাউদ্দিন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ ও আদার দাম খুব বাড়ছে। তবে এখন পেঁয়াজ কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া আদার দামও বাড়তি। পেঁয়াজ ও আদা দুটোরই সরবরাহ সংকট রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, খাতুনগঞ্জে এখন গড়ে ১৫ ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশ করছে। আগে এক সময় ৩০-৪০ ট্রাক পর্যন্ত আসতো। বর্তমানে পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে। গত দুইদিন ধরে বিক্রি কম থাকায় দামও ২-৩ টাকা কমেছে। পেঁয়াজ কখনো মজুদ করে রাখা যায় না। এখন আরো গরমকাল। গরমে এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও এমনিতে কমে যাবে।

এদিকে কাজীর দেউড়ির খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। এছাড়া মিয়ানমারের আদা ১১০ টাকা এবং চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আমাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজার প্রায় সময় ব্যবসায়ীদের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে। ক্রেতাদের একপ্রকার জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম ওঠানামা করে থাকেন।

দাম বাড়ার ক্ষেত্রে একেক সময়ে একেক রকম অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন তারা। আমরা বারবার বাজার মনিটরিংয়ের দাবি করে আসছি, সেটি কিন্তু হচ্ছে না। অনেক সময় প্রশাসন খুব বেশি দাম বাড়লে বাজার মনিটরিংয়ে নামে। তাই প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ভোগ্যপণ্যের বাজার যেন স্থিতিশীল রাখা হয়।

সকালের-সময়/এমএফ

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ