বিষয় :

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার


সকালের-সময় রিপোর্ট  ১৯ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৩৩ : পূর্বাহ্ণ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমে এলেও আসন্ন শীতে সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। শীতে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সরকার ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ যাতে বাড়তে না পারে, সেজন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের পয়েন্ট অফ এন্ট্রিসমূহে আসা যাত্রীদের স্ক্যানিং অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ৩ কোটি ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যে গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, করোনার টিকা ও চিকিৎসার সামগ্রী সংগ্রহের জন্য এডিবি আরও ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে।

করোনাকালীন কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্বব্যাংক ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১১০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা পাওয়া গেছে। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের জন্য ১১৩ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে ও তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাত সত্ত্বেও প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনয়নের নীতি গ্রহণ করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে চতুর্থ স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে, ফলে খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। এ ছাড়া সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে কৃষি উন্নয়নের রোল মডেল।

এসএস

Print Friendly, PDF & Email

আরো সংবাদ