স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে অনেক খাতের উন্নয়ন ঘটলেও রেল খাতের তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। অথচ দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে রেলের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে রেল সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হলেও এটি একটি অবহেলিত ও অনিয়ম-দুর্নীতির বড় খাত হিসাবেই এ দেশে রূপ নিয়েছে।
জানা যায়– রেলের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) মেরামতের কাজ হয় ডিজেল ওয়ার্কশপে। সম্প্রতি এই দপ্তরে কেনাকাটা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়–বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে ডিজেল ওয়ার্কশপে কেনাকাটা করা হয়। সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয়ে এ দপ্তরে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ কর্মকর্তা-ঠিকাদার সিন্ডিকেট। ডিজেল ওয়ার্কশপের কর্মব্যবস্থাপক রাজীব দেবনাথ ও প্রধান সহকারী মোহাম্মদ আমির খসরু এ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে আছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়–ডিজেল ওয়ার্কশপ, ক্যারেজ ওয়ার্কশপ, ঘিরেই ঠিকাদারদের আনাগোনা বেশি। সেখানে বিশেষ কয়েকজন ঠিকাদার ছাড়া যে কেউ কাজ পায় না বলে অন্য ঠিকাদারদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ডিজেল ওয়ার্কশপের কয়েকজন শ্রমিক জানান, ডিজেল ওয়ার্কশপে প্রতিবছর ইঞ্জিন মেরামত, ইঞ্জিনে সরঞ্জাম লাগানো, ডেমু মেরামত ও ট্রাকশন মোটর মেরামতের নামে প্রচুর অর্থ নয়ছয় করা হয়। সেখানে কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। ডিজেল ওয়ার্কশপের কর্মব্যবস্থাপকের সাথে শীর্ষ কয়েকজন ঠিকাদারের সখ্যতা আছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এসব ঠিকাদাররাই কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ দপ্তরে ভুয়া চাহিদা দেখিয়ে নানা সরঞ্জাম কেনার বিনিময়ে কমিশন ভোগ করছেন ডিজেল ওয়ার্কশপ কর্মব্যবস্থাপক রাজীব দেবনাথ ও বড়বাবু আমির খসরু। এই কার্যালয়ে গত ২ বছরে যেসব কাজ হয়েছে তা তদন্ত করলেই সকল অনিয়ম ধরা পড়বে। ঘুরেফিরে পাঁচ থেকে দশটি প্রতিষ্ঠানই সেখানে পিপিআর সিস্টেমে কেনাকাটায় লিপ্ত থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার ডিজেল ওয়ার্কশপ কর্মব্যবস্থাপক রাজীব দেবনাথ ও বড়বাবু আমির খসরুকে কল দেয়া হলেও তারা কল রিসিভ করেনি তবে–রেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সকালের-সময় ডটকমকে বলেন–তাদের দুজনের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার মৌখিক অভিযোগ পেয়ছি, তদন্ত করে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সকালের-সময়/এমএফ