বিষয় :

ত্রাণ চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার


১৭ এপ্রিল, ২০২০ ৮:২১ : অপরাহ্ণ

সারাদেশে একের পর সরকারি ত্রাণ আত্মসাৎ বিশেষ ওএমএসের চাল চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিছু মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বিব্রত আওয়ামী লীগ। এতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। তাই দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার খোদ নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

সব মেম্বার-চেয়ারম্যান কিন্তু চোর নয়, তবে যারা ত্রাণ চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত সে যেই হোক তাকে বহিস্কার ও আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন সরকার প্রধান। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সজাগ থাকার আহবান জানান। দলের সভাপতির নির্দেশে এই উদ্যোগ খুব প্রশংসনীয় হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মোঠোফোনে কথা হলে তারা সকালের-সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে দলটির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য সকালের-সময়কে বলেন, করোনা মহাদুর্যোগের মধ্যেও যারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের নেই। সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে লাখ লাখ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। কোন নাগরিক যেনো না খেয়ে থাকে সেজন্য এ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে তার সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজনের জন্য দল ও সরকারকে বিব্রত হতে হচ্ছে। যারা জড়িত তারা আসলে দলে হাইব্রিড নেতা হিসেবে পরিচিত। ত্যাগী নেতারা এসবে নেই।

এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি আরও বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ তাদেরকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হচ্ছে। এরপরই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দূর্যোগের সময় বাস্তবসম্মত ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের পাশে রয়েছেন।

হাতেগোনা কয়েকটি চাল চুরির ঘটনা বড় করে দেখা হচ্ছে অভিযোগ করে চট্টগ্রামের কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে চাল চুরির ঘটনাগুলো সামনে আনছে। অথচ সরকার জনগণের জন্য যেসব ইতিবাচক ও ফলপ্রসু পদক্ষেপ নিয়েছে সেসব নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না।

অর্থাৎ বাংলাদেশে মোট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৬১৫৭৯ জন। এবার শতকরা হিসেব যদি আমরা করি, তাহলে মোট জনপ্রতিনিধির ০.০৩ শতাংশ হবে না এই চাল চুরির সাথে জড়িত। এর থেকে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা আর চোর, ডাকাত ও দুর্নীতিবাজদের অনুপাত বের করলে ঢের বেশি পাওয়া যাবে। অবশ্য এই ০.০৩ শতাংশ বলে যে তারা মাফ পেয়ে যাবেন বিষয়টা এমন নয়। বরং এই ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন চেয়ারম্যান এবং ৫জন মেম্বারকে বরখাস্ত ও দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয়েছে আরো ২ জনকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে এদের প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে বিপাকে পড়া হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকার সারাদেশে ত্রাণের চাল বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের বরাদ্দ দেয়া চাল কিছু অসাধু নেতাদের যোগসাজসে চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫দিনে সারাদেশে ৩ হাজার বস্তার বেশি ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি সোস্যাল মিডিয়ায় মানুষ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

চাল চুরির দায়ে ইতোমধ্যে ডিলার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতার জেল জরিমানারও খবর পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই রয়েছেন পলাতক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তারা যেই হোক তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, করোনা ভাইরাসের চলমান এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করে তাদের মানুষ বলা যায় না। এরা মানুষরূপী জানোয়ার। তিনি এদের প্রতি ঘৃনা জানিয়ে সব জেলা প্রশাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এই ত্রাণ আত্মসাতের তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিন। সরকারি চাল লোপাট করতে গিয়ে এরইমধ্যে নাটোর, জয়পুরহাট ও যশোরে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন।

যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও রয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে বগুড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ভোলা, কুমিল্লা, লক্ষীপুর,ঝালকাঠি, খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা, নাটোর, রংপুরসহ সারাদেশে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সকালের-সময়কে বলেন, করোভাইরাসের এ দুর্ভোগে যারা এ ধরনের অমানবিক আচরণ করতে পারে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এরা আওয়ামী লীগের আদর্শের পরিপন্থী। এদের থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে, মানুষের এই দুর্ভোগের সময় যারা দুর্নীতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সকালের-সময়/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ