বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ৭ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের ২২ জন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চকবাজার থানা ও ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ১০ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি তিনজনকে আজ বুধবার আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া হবে।
এই বর্বর হত্যায় জড়িত আরো তিনজনের ওপর গোয়েন্দারা নজর রাখছেন, যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এছাড়া পলাতক ছয়জনকে গ্রেপ্তারে তাদের অবস্থান জানতে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আবরার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। আসামিদের স্বীকারোক্তিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারের বাইরে থাকা আসামিদেরও গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য হলো বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের নির্দেশে সংগঠনটির ২২ জন নেতাকর্মী আবরারের ওপর বর্বর নির্যাতনে সরাসরি জড়িত। প্রথমে ২০১১ নম্বর কক্ষে এবং পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে তার ওপর টানা ৭ ঘণ্টা নির্যাতন চালানো হয়।
রোববার রাত সাড়ে ৮টা থেকে শেরে বাংলা হলের টর্চার রুম ২০১১ ও ২০০৫ এ আটকে রেখে দফায় দফায় পেটানো হয় আবরারকে। এ সময় তার মুখ চেপে ধরা হয়, যাতে সে কান্না বা চিৎকার করতে না পারে। এর মধ্যেই দুবার বমি করে ফেলেন আবরার। নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মরদেহ রাত আড়াইটার দিকে সিঁড়িতে ফেলে রেখে নেতারা টিভিরুমে চলে যান।