সীতাকুণ্ড পৌর মেয়রের ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতি, মামলার প্রস্তুতি দুদকের!


২১ জুন, ২০২০ ১০:৫৩ : অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মেয়র বদিউল আলম ও এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে দুদক। ফলে, দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ মোতাবেক মেয়রসহ দু‘জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সকালের- সময়কে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিনা টেন্ডারে প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বর্তমান মেয়র বদিউল আলম ও সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার মেয়র ও প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে চারটি প্রকল্পের কাজ বিনা টেন্ডারে ভাগিয়ে নেন উপজেলার মেয়র বদিউল আলম। সেখানে ৪টি প্রকল্প থেকে ১৯ লাখ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব তহবিল প্যাকেজ নম্বর-৯ পোলট্রি ফার্ম প্রকল্পের নামে বিনা টেন্ডারে কাজ শেষ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর দরপত্র আহবান করে উপজেলার পৌরসভা।

এই প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ২২ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৫ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়ক তহবিল প্রকল্পে উপজেলার রামহরী মুন্সিপাড়ার সড়ক থেকে গোলাবাড়ি এলাকায় দেশের কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের বাড়ির সামনে পর্যন্ত ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫২ টাকা বিনা টেন্ডারে একটি প্রাক্কলিত প্রকল্পের কাজ কিছু অংশ করে কাজ শেষ করা হয়।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়ক তহবিল প্যাকেজ নম্বর-২৬ (ক) ঈদুলপুর শিবপুর সড়কের পাশে একটি প্রাক্কলিত প্রকল্পে কাজ শেষ করা হয়— তাও বিনা টেন্ডারে। পরবর্তী এই প্রকল্পের দরপত্র আহবান করে পৌরসভা। এ টেন্ডারে বরাদ্দ ছিল ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৩১০ টাকা।

একই সঙ্গে উন্নয়ন সহায়ক প্রকল্প প্যাকেজ নম্বর-২৭ এর আওতায় পরানপুকুর অংশ থেকে অবশিষ্ট অংশ, দিঘীরপাড়া এলাকায় কার্পেটিংয়ের অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ কার্পেটিং এবং তাঁতীপাড়া সড়কের উন্নয়ন করা হয়। এই তিন প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৮২ টাকা। ওই প্রকল্পগুলো বিনা টেন্ডারে কাজ করা হয়।

দুর্নীতির বিষয়ে মেয়র বদিউল আলমের সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন, আমি অসুস্থ আছি, আপনি বিষয়টি দুদকে জিজ্ঞাসা করেন, অনিয়ম হলে ওরা আমাকে চিঠি দিবে, আমি দুর্নীতি করলে মামলা আপনি করবেন নাকি দুদকে করবে! যদি দুদকে মামলা করে তখন আমি ওদের জবাব দেব।

উল্লেখ্য, ৯ই জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পৌরসভা এলাকায় চারটি প্রাক্কলিত প্রকল্পের কাজ বিনা টেন্ডারে দেয়ার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন, দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ, উপসহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন ও উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম।

এতে সরকারি উন্নয়ন সহায়ক তহবিলের ৪টি প্রকল্প থেকে ৬২ লাখ টাকা ১১ হাজার ৯৮৯ টাকা আত্মসাতের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। আত্মসাতের এ ঘটনায় মেয়রের সহযোগী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিদারুল আলম এপোলোর জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

প্রিয় পাঠক… মেয়র বদিউল আলমের আরও নতুন নতুন দুর্নীতির তথ্য জানতে আগামী পর্বে চোঁখ রাখুন। 

0Shares

আরো সংবাদ