সাকা যুদ্ধাপরাধী ছিলোনা বলায় ফেঁসে যাচ্ছেন বন গবেষণা পরিচালক!


৪ জুন, ২০২৩ ৫:৫৩ : অপরাহ্ণ

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী) কখনোই যুদ্ধাপরাধী ছিলোনা, তোমরা এলাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখো। সাকা চৌধুরীরা বাংলাদেশের একটা এলিট ফ্যামিলি তারা মানুষকে দিয়ে থাকেন। এভাবেই অফিস সহকর্মীদের সাথে অকপটে লাগামহীন ভাবে বলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. রফিকুল হায়দার। তার এসব অপ্রাসঙ্গিক কথা ভাইরাল হওয়াতে বেশ কিছুদিন ধরে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে চলছে নানা আলোচনা–সমালোচনার ঝড়।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না’ বলে দাবির অভিযোগে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. রফিকুল হায়দারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্ত করে ২৩ জুলাই প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.জহিরুল কবিরের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ এ বিষয়ে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ১ মার্চ ২০২৩ ই স্মারক নং -৪১৯ মূলে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. রফিকুল হায়দারকে শোকজ করে। গত ৯ মার্চ ২৩ তিনি শোকজের জবাব মন্ত্রণালয় পাঠালেও তা সন্তোষ জনক নয় বলে জানা যায়। ড. রফিকুল হায়দারের পাঠানো জবাবে ৪টি পয়েন্টে অধিকাংশই মিথ্যা বানোয়াট কথা লেখেছেন যাহা শোকজের সঠিক জবাবের অসংগতিপূর্ণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর কমান্ডার গ্যারিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ বলেন, ড. রফিকুল হায়দার বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পদে দায়িত্বে থেকে জ্ঞানহীন কথা বলতে পারেনা, তার বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মানুযায়ী চাকুরী থেকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় মামলা করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, এখানেই শেষ নয় ড. রফিকুল হায়দারের কুকর্মের ফিরিস্তি। গোপালগঞ্জের নামে কোনো প্রজেক্ট তৈরি হলে সেই প্রজেক্ট ফাইল তার টেবিলে গেলে অফিস সহকর্মীদের সাথে উচ্চবাচ্য সুরে কথা বলে ফাইল ছিটকে ফেলে দেন। তার ভয়ে অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তটস্থ হয়ে থাকেন, তার ব্যতিক্রম হলেই অন্যত্রে বদলি নতুবা প্রমোশন আটকে দেন তিনি।

সুত্র মতে আরও জানা যায় –১১অক্টোবর ২০২১ সালে বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন কর্মকর্তা অবসরে গেছেন প্রত্যকের ফাইল আটকে দিয়ে সুকৌশলে উৎকোচ আদায় করেছেন। এমনকি চাকুরী দেওয়ার নাম করে কয়েকজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। পরবর্তী কারোরই চাকুরী হয়নি।

তথ্য সূত্রে জানা যায়– ড. রফিকুল হায়দার যে পিএইচডি করেছেন অন্যের বন গবেষণাগার এর এক মহিলা কর্মকর্তার। তার থিসিস গায়েব করে নিজের বলে চালিয়ে দিয়ে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন। রফিকুল হায়দার তার চাকরি জীবনের শুরুতে ১৯৯৩ সালে বিএফআরআই এর প্রজেক্টে জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে। বিএনপির আমলেই সুকৌশলে এই চাকরি ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হন তিনি।

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে পরে বোল্ট পাল্টিয়ে ২০১৬ সালে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় “আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” স্থাপনের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডোমার উপজেলার ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালীন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে।

ঐদিকে রাবার বোর্ডকে দেওয়া ৪ টি বাসা বরাদ্দ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ বিষয়ে ২০ অক্টোবর ২০২০ইং ও ৩১ মে ২১ইং তারিখ দুদক থেকে নোটিশ জারী করে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পিছ “পা” হননি তিনি। ডোমার উপজেলায় “আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” স্থাপন করা বর্তমানে সেটা অলস বসে আছে, নেই কোনো প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ৫জন অফিস স্টাফ অলস বসে দিনাতিপাত করছেন। প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য যে যন্ত্রপাতি কেনা হয় তা অনেকটাই ঝং ধরেছে এবং নষ্ট হওয়ার পথে।

সুত্র মতে আরও জানা যায়, ২০১৭ সালে ড. রফিকুল হায়দার সুকৌশলে জাতীয় পুরস্কার ভাগিয়ে নেয়, পরবর্তী ২০২২ সালে “শ্বেতচন্দনের সফল নার্সারি” হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার জন্য পূর্বের পুরস্কার বিষয় গোপন রেখে পুনরায় আবেদন করেন। সরকারের নিয়মানুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী একবার জাতীয় পুরস্কার পেলে সে আর পরবর্তী পাবেনা। কিন্তু ড. রফিকুল হায়দার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে জাতীয় পুরস্কার হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ড. রফিকুল হায়দারের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার মূল হোতা হিসেবে একজন অতিরিক্ত সচিব কাজ করছেন। ড. রফিকুল হায়দারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে অভিযোগ ফাইল গায়েব হয়ে যায় বলেই তার বিরুদ্ধে সঠিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়না বলে জানান এক কর্মকর্তা।

সাকা চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী ছিলোনা বিয়টি জানতে মুঠো ফোনে ড. রফিকুল হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত, এধরনের কথা বলার কোন সুযোগ নেই, অলরেডি দেশের আইন আদালতে তা প্রমাণিত, আমার জানা মতে আমি এধরনের কোন কথা বলিনি। আমার মত একজন ব্যাক্তি কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা বলার সুযোগ নেই।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী ছিল না বলে দাবি করায় বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল হায়দারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে ছাত্রলীগের ওই নেতার অভিযোগ, গত ২০ মে ও ২৮ মার্চ দুটি পত্রিকায় রফিকুল হায়দারের বরাতে ‘সাকা কখনো যু্দ্ধাপরাধী ছিল না’ এমন বক্তব্য ছাপা হয়।

জানা গেছে, রফিকুল হায়দার বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্যের ৪৪ সেকেন্ডের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ