অনিয়ম-দুর্নীতির হাট—চট্টগ্রাম নৌ-বাণিজ্য দপ্তর!


১১ নভেম্বর, ২০২১ ৫:২৩ : অপরাহ্ণ

নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম ও শাখা কার্যালয় খুলনায় অবস্থিত। একজন প্রিন্সিপাল অফিসার এই অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কিন্ত কলঙ্কের যেন শেষ নেই এই নৌ-বাণিজ্য দপ্তর ঘিরে। নানা কৌশল প্রয়োগ করে ঘুষ দুর্নীতির হাট খুলে বসেছেন এ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অফিসের নৌ প্রকৌশলী ও শীপ সার্ভেয়ার, অফিস সহকারীরা একজোট হয়ে অবৈধপথে কেবলমাত্র নৌযান সার্ভে খাতেই প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এই দপ্তরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনব দুর্নীতির কারণে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করছেন তারা। এ যেন মগের মল্লুক! যে যেভাবে পারে লুটে পুটে খাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়—এ দপ্তরে নানা কৌশলে জাহাজ সার্ভের নামে অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মো: জালাল উদ্দীন গাজীসহ ও আরো কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের সম্পর্ক যেন প্রভুভক্ত গুরু-শিষ্যের মতই বিদ্যমান। কিভাবে অতি অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় তার দীক্ষা তারা এখান থেকে নিয়ে থাকেন। নৌ সেক্টরের বারোটা বাজিয়ে নিজেদের বিত্তবিলাসী জীবন পরিচালনার মাষ্টারপ্ল্যান করা হয় এই দপ্তরের চেয়ারে বসেই।

জানা যায়—এই দপ্তরের ক্যাপ্টেন মো: জালাল উদ্দীন গাজী প্রতিমাসে গড়ে ২০/৩০ টি করে নৌযান সার্ভে করে থাকেন। আর এসব নৌ-যানের সার্ভে ও ফিটনেস সনদ প্রদান বাবদ জাহাজের প্রকারভেদে প্রতিটি জাহাজ থেকে ঘুষ নেন ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে পুরাতন, অকেজো, লক্করঝক্কর, মেয়াদ উত্তির্ণ নৌযানের মালিকদের সাথে দালালের মাধ্যমে দরদাম নির্ধারন করেন ক্যাপ্টেন জালাল উদ্দীন গাজী নিজেই।

আরো জানা যায়—পুরাতন জাহাজে নামে মাত্র নকশা জমা রেখে জাহাজের কাঠামো ও যান্ত্রিক পরীক্ষা- নীরিক্ষা না করেই ওই জাহাজকে ৫/১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নতুন জাহাজ হিসাবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয় এই নৌবাণিজ্য দপ্তর থেকে।

অন্যদিন—নৌযানের গ্রস্টন কমিয়ে পরস্পর যোগসাজসে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করছেন ক্যাপ্টেন জালালসহ এই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু ২০১৮ থেকে ২০২০ অর্থ বছরে নতুন রেজিস্ট্রেশন প্রদানকৃত নৌযান গুলোর ফাইল নীরিক্ষা করলেই এই জাল জালিয়াতির প্রমান মিলবে বলে জানান একাধিক সূত্র।

আরো জানা যায়—যেসমস্ত নৌযানের উপকুল অতিক্রমের যোগ্যতা নেই সেই সমস্ত নৌযানকে অর্থের বিনিময়ে উপকুল অতিক্রম বা চলাচলের অনুমতি প্রদান করে প্রতিটি নৌযান থেকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করেন ক্যাপ্টেন জালাল উদ্দীন গাজি ও তার সহযোগিরা।

এছাড়া—নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রশাসনিক আদেশ থাকা সত্বেও নৌযানের মালিকানা পরিবর্তনে বিধি ভঙ্গ করে ১০/১২ লাখ টাকার বিনিময়ে মালিকানা পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রশন সনদ প্রদান করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত বিধি হল—জাহাজ নির্মাণের পর ২ বছরের মধ্যে মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। অথচ নানা অজুহাতে সেই বিধি ভঙ্গ করছে নৌ বানিজ্য দপ্তর চট্টগ্রাম।

আরো জানা গেছে, জাহাজ নির্মাণ হওয়ার আগেই সরে জমিনে পর্যবেক্ষণ না করেই অর্থের বিনিময়ে সার্ভে এবং রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে এই দপ্তর থেকে। এবং জাহাজ নির্মাণের স্ট্রাকচার পর্যবেক্ষণ না করেই কিল্লেইংক সনদ ইস্যু করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাহাজ প্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫/৬ লক্ষ টাকা।

আর এ দিকে ক্যাপ্টেন জালাল উদ্দীন গাজি প্রতিটি ত্রুটিপূর্ণ নৌ-যানের সার্ভে সনদ দিতে ঘুষ নিচ্ছেন ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। রেজিস্ট্রেশন বাবদ নিচ্ছেন ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা।

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানার জন্য ক্যাপ্টেন মো: জালাল উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের-সময়কে বলেন—এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, এই দপ্তরে আমার ছেয়ে যোগ্যব্যাক্তি আর কেউও নেই। আর এখানে আমি একা দুর্নীতি করি না, সবাই করে, আপনারা ওদেরকে চোঁখে দেখেন না।

সম্প্রতি, এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ও নৌ-পরিবহন মনন্ত্রণালয় বরাবর
লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হলে ক্যাপ্টেন জালালের বিরুদ্ধে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আরেকটি প্রতিবেদন থাকছে আগামী পর্বে সাথে থাকুন….।

সকালের-সময়/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ