দেশের মাটিতে যখন নতুন পেঁয়াজের জন্য ঘামে ভেজা দেহে কৃষক অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই অসাধু সিন্ডিকেট অতি মুনাফার লোভে ফের কারসাজি শুরু করে দিয়েছে। জানা গেছে, মৌসুম শুরুর আগেই বাজারের দখল নিতে আমদানির ফাঁদ পেতেছে সেই চক্র। আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের এ চক্র পেঁয়াজ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
সাধারণ মানুষ জানান, পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে যে নোংরা খেলা চলছে, তা আর শুধু অস্থিরতার পর্যায়ে নেই, এটি এখন মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের নির্লজ্জ কারসাজিতে পরিণত হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সরকারের নজরদারি ও তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
এদিকে—পর্যপ্ত মজুদ থাকা স্বত্বেও দেশের খুচরা বাজারে দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ছে, যা দ্রুত প্রভাব ফেলেছে খুচরা বাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ আটকে রেখে দাম বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দাম বাড়ার অজুহাত তুলে ভারত থেকে আমদানির জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগেও এই দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
বেসরকারি চাকরিজীবী করিম উদ্দিন বলেন, এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১৬০ টাকা, প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। বাজারে নিশ্চয় কিছু হচ্ছে। সরকারকে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। পেঁয়াজ সিণ্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকএক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ পাইকারি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ১০০ বস্তা পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় ২০ বস্তা পেয়েছি। ফলে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।
চকবাজারের এক খুচরা বিক্রেতারা জানান, ক্রেতারা দাম শুনে হতবাক হচ্ছেন, কেউ কেউ তর্কেও জড়াচ্ছেন। তাঁদের দাবি, নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা এবং আমদানি শুরু হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম কমতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে সব পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে এখন তাদের কাছে পেঁয়াজ নেই। এই সুযোগে অসাধু মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ আটকে রেখে দাম বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে দাম বাড়ার অজুহাত তুলে ভারত থেকে আমদানির জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করতেই সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুদ আছে।
এসএস/এমএফ