সকালেরসময় রিপোর্ট:: রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৭ জন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, আগুনে দগ্ধ ১০ জনসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটর্ফোডে ভর্তি আছেন। এদের মাধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন।
শাহী মসজিদ সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর আরও একাধিক ভবনে ছড়িয়ে পড়া আগুন এখনো জ্বলছে। তবে আগুনের লেলিহান শিখা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট। চলছে উদ্ধারকাজও। তবে কেউ কেউ ভবনগুলো থেকে উদ্ধার হয়ে বা বেরিয়ে এসে খুঁজছেন স্বজনকে।
চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনে লাগা ভয়াবহ আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দগ্ধও অনেকে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার রাত পৌনে ১১ টার দিকে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তা পাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ রাত আড়াইটা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষের পর সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ওয়াহিদ ম্যানশনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নিচ তলায় হোটেল ও দ্বিতীয় তলায় পারফিউমের গোডাউন ছিলো। যার কারণে আগুন আরো দ্রুত পাশের তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে নেমে পড়েন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনটি ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ওয়াহিদ ম্যানশনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন জানান, গাড়ির সিলেন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলী এলাকার একটি বাড়ির নিচতলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। ভয়াবহ ওই আগুনে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ঢাকা মহানগরের আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।