বিষয় :

অর্থ আত্মসাত মামলায় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে দুদকে তলব


৩ এপ্রিল, ২০১৮ ৭:১০ : অপরাহ্ণ

সকালেরসময় নিউজ ডেস্ক::  অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার তার ঠিকানায় তলবের নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে বিএইচ হারুনের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। এই কারণে আগামী ১১ এপ্রিল সকালে দুদক প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে চিঠি নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স রুমী এন্টারপ্রাইজের মালিক ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান। লিখিত অভিযোগ বলা হয়, তার ব্যাংক হিসাব থেকে ব্যাংকটির পরিচালক এমপি হারুন অন্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ওই অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শামসুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের এই অনুসন্ধান দলের অপর সদস‌্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও আলাদাভাবে একই অভিযোগ করেন খলিলুর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়, সৌদি সরকারের সাহায্যে ২০০৮ সালে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১৫ হাজার ঘর নির্মাণে ২০৪ কোটি টাকার কাজ পান তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ছিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের বংশাল শাখায়। সিডর এলাকায় কাজ চলাকালে ব্যাংকে জমা হওয়া ২০৪ কোটি টাকার মধ্যে ২৯৭টি চেকের মাধ্যমে ৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

কাজ শেষে বাকি ১৩৪ কোটি টাকা তোলার জন্য বংশাল শাখায় গেলে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক সামসুদ্দিন চৌধুরী জানান, তিনি (গ্রাহক খলিলুর রহমান) সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন এবং হিসাবও বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর তিনি দুদক ও বাংলাদেশ ব‌্যাংকে অভিযোগ করেন।

আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে ব্যাংকটিকে তিন দফা নোটিস দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকের ব‌্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো নোটিসে বংশাল শাখার গ্রাহক রুমী এন্টারপ্রাইজের এসটিডি হিসাবের ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূল কপি, হিসাব নম্বর থেকে লেনদেনের রেকর্ড ও বিবরণীর সত্যায়িত ফটোকপি চাওয়া হয়।

এছাড়া রুমী এন্টারপ্রাইজের ওই হিসাব থেকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৮৫টি চেকের মাধ্যমে ২০৭ কোটি টাকা উত্তোলন সংক্রান্ত চেকের মূল কপি এবং এর সত্যায়িত কপি, হিসাবের বিপরীতে চেকবই ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার এবং চেকবই গ্রহণকারীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রমাণপত্রের সত্যায়িত ফটোকপিও চাওয়া হয়।

এছাড়া চেক ইস্যুকরণ, ক্লিয়ারিং ও টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও বর্তমান ঠিকানা, রুমী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমানের কেওয়াইসি ছাড়াও নমুনা স্বাক্ষর কার্ড, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয় নোটিসে।

অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র না পাওয়া গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১৯ (৩) ধারায় ব‌্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল দুদক। ঝালকাঠি-১ আসনের সাংসদ বিএইচ হারুনের ছেলে মাহির হারুন দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত বনানীর হোটেল রেইন ট্রির মালিক ।

0Shares

আরো সংবাদ