অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। আজ সোমবার রাতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।
এর আগে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে টিকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, টিকা আমদানির অনুমতি পেলে এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে করোনার টিকা আনা হবে। বাংলাদেশে অক্সফোর্ডের করোনার টিকা আসলেই পাওয়া যাবে কিনা এ বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে নাজমুল হাসান পাপনের আজ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ভারত টিকা দেবে না বলে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তিন কোটি টিকার বিষয়ে টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অনেক আগেই চুক্তি হয়েছে, অগ্রিম টাকাও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, সোমবারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে টিকা রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
নাজমুল হাসান পাপন বলেন, যেহেতু এটা নিয়ে একটা নিউজ এসেছে। এক্সপোর্ট বন্ধ, এটা নিয়ে বিশ্বব্যাপী একটা টেনশন হতে পারে; এটা নিয়ে আমার রিকোয়েস্ট থাকবে, নিয়ম-কানুন মেনে যত দ্রুত সম্ভব এটা যদি দিয়ে দেয়, এক মাসের মধ্যে আমরা নিয়ে আসতে পারব। উনারা যদি এখন এক সপ্তাহ পরে দেন, তাহলে এক সপ্তাহ পর থেকে এক মাস শুরু হবে।
এভাবে দুই সপ্তাহ থেকে যদি আরো এক মাস পরে দেন, তাহলে এক মাস পর থেকে শুরু হবে। সুতরাং, এটা এখন সম্পূর্ণরূপে এই দুটোর ওপর নির্ভরশীল।
অক্সফোর্ডের এই টিকা আমদানির বিষয়ে চুক্তি সরকারের সঙ্গে সরকারের নয় দাবি করে বেক্সিমকো ফার্মার এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যবসার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে।
নাজমুল হাসান পাপন বলেন, স্বাস্থ্য সচিব যে জি-টু-জির কথা বলছেন, উনি কোন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন, আমি জানি না। এটা হতে পারে অন্য ভ্যাকসিন। গভর্নমেন্টের অন্য গভর্নমেন্টের যোগাযোগ থাকতেই পারে। এটা আমার জানা নেই। এখানে বেক্সিমকো ফার্মাও গভর্নমেন্ট না, সিরাম ইনস্টিটিউটও গভর্নমেন্ট না। এটা খুবই ক্লিয়ার। কাজেই এখানে গভর্নমেন্ট-গভর্নমেন্ট কী হয়েছে, হতে পারে সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হতে পারে।
এদিকে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা আমদানির বিষয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন, সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছি এটি আমদানি করার জন্য। এটি আমদানি করে ব্যবহার করতে পারবে। কয়েকধাপে, ভারতে প্রস্তুত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা প্রতিষেধক তিন কোটি টিকা বাংলাদেশে আমদানির করার কথা রয়েছে ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে।
এসএস