সারাদেশ ডেস্ক : ঝালকাঠিতে এমভি অভিযান-১০ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও অনেক যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে সুগন্ধা নদীর গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চটি চলন্ত অবস্থায় লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, অনেকেই লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচলেও এ ঘটনায় কমপক্ষে ৭৫ জন দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাইদুর রহমান নামের এই যাত্রী বলেন, লঞ্চে শিশু, বুড়ো, নারীসহ কমপক্ষে তিন শতাধিক যাত্রী ছিল।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আগুন ভোর ৫টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যাত্রীরা অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। অনেকে হয়তো পারেননি।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আহত হয়ে ৬৫ জন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানান, এখন পর্যন্ত ৬৬ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দগ্ধ ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিমে) পাঠানো হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
তিনি জানান, বরিশাল থেকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ টার্মিনালের দূরবর্তী দিয়াকুল এলাকায় এলে ঘটনাটি ঘটেছে। লঞ্চটির ইঞ্জিনরুমের কাছে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিজানুর রহমান জানান, ভর্তি রোগীদের মধ্যে সাত থেকে আটটি শিশু রয়েছে। আহতদের বেশিরভাগেরই শরীরের বিভিন্ন স্থান দগ্ধ হয়েছে।
এস এস/