সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে জোরপূর্বক রাস্তা ও ছড়া দখলে করে কারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে শিল্পগ্রুপ পিএইচপির বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনধরে চলাচলের রাস্তা ও পানি নিঃষ্কাশনের ছড়া ব্যবহার করতে না পারায় চরম ভুগান্তিতে পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সম্প্রতি ভুক্তভোগিরা সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়ের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। বেআইনিভাবে সরকারী রাস্তা ও পানি ছড়া দখলে নিয়ে কারখানার আওতাভুক্ত করে দখল করেছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছে তারা।
সূত্র জানায়, দখলে নেওয়া সরকারি রাস্তা ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিএস ৭৬১০ দাগের, যেখানে ৭৩ শতাংশ জায়গা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং আইন উপেক্ষা করে দখলে নিয়েছে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডেট। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাঁচগাছিয়া ছড়ার অংশ বিশেষও দখলে নিয়েছে ভূমিখেকো পিএইচপি গ্রুপ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসীরা জানান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে ভূমি দখলে মেতেছে পিএইচপি গ্রুপ। যুগযুগ ধরে পাহাড়ে কৃষিকাজে যাওয়ার কাজে এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে স্থানীয়রা। কিন্তু রাস্তাটি পিএইচপি গ্রুপ গিলে পেলায় এলাকার হাজার-হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পরিবারের জীবিকার একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাতাযাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা কৃষিনির্ভর পরিবার আমাদের সাথে পিএইচপি গ্রুপ যা করে যাচ্ছে তাদের উপর আল্লাহর লানত পড়বে।
তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ছড়া দখলে নেওয়ায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে পানি নিঃস্কাশন। ফলে বর্ষা মৌসুমসহ সারাবছরই থাকছে জলাবদ্ধতা। বহুদিন ধরে স্থানীয়রা এই সমস্যার প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েও কোনো সুরহা হয়নি।
স্থানীয়রা আরো জানান, পিএইচপি গ্রুপ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীকে মাসোহারা দিয়ে নিজেদের করে নিয়েছে। তারা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ভুক্তভূগীদের। এসব প্রভাবশালীদের নানা সুবিধা দিয়ে তারা বছরের পর বছর তাদের অপকর্ম চাপা রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এসব প্রভাবশালীদের চাপ ও ভয় উপেক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্থরা সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগি মো. শহিদুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে যে রাস্তা ধরে পাহাড়ে গরু, মহিষ, ছাগল নিয়ে কিংবা ক্ষেত খামার করার জন্য যেতাম সেই রাস্তা দখলে নিয়েছে পিএইচপি গ্রুপ। কৌশলে তারা প্রাচীন এই রাস্তা দখল করে কারখানার সীমানা করে নিয়েছে পিএইচপি গ্রুপ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পিএইচপি কর্তৃপক্ষকে বারবার চলাচলের ওই রাস্তা উন্মুক্ত করার জন্য বারবার অনরোধ করলেও তার কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই আমরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রশাসনিক সূত্রে যানা যায়, অভিযোগের পর ১১ নভেম্বর নির্বাহী কর্মকর্তা শুনানীর জন্য নোটিশ দেন পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অভিযোগকারী শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্যদের। ১৬ নভেম্বর শুনানী শেষে সিদ্ধান্ত হয় সার্ভেয়ার নিযোগের মাধ্যমে সড়কের জায়গা চিহ্নিত করে তা উদ্ধার করা হবে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পিএইচপির বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ করে স্থানীয়দের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানার জন্য পিএইচপির গ্রুপের অফিস ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগেও ৬মার্চ বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নস্থ আনোয়ারা জুট মিলের পাশে জঙ্গল কাটগড় এলাকায় পাহাড়ের ঢাল কেটে ২১ হাজার ৭৫০ বর্গফুট রাস্তা নির্মাণ করায় পরিবেশ অধিদপ্তর তখন অভিযোগের ভিত্তিতে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি তিনশ’ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন পিএইচপি গ্রুপ।
সকালের-সময়/এমএফ