পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই, ধরা পরে ৬ মাস পর


১৭ মার্চ, ২০১৯ ১০:৩১ : অপরাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট:: সিজার হওয়ার ছয় মাস পরে পেট থেকে বের হলো গজ ব্যান্ডেজ। ছয় মাস আগে সিজারিয়ান অপারেশন করে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দিয়েছিল ডাক্তার। এরপরেও পেটের ব্যাথা না কমায় ৬ মাস যাবত বিভিন্ন হাসপাতাল আর ডাক্তারের চেম্বার ঘুরে ফরিদপুরে এসে ধরা পরে বিষয়টি।

এরপর পুনরায় অপারেশন করে তার পেটের গজ ব্যান্ডেজ বের করা হলেও সংকট কাটেনি। ওই প্রসূতির পেটের ভিতরে পচন ধরায় চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে এখনই কিছুই বলতে পারছেন না। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় তীব্র যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ওই প্রসূতি নারী। অপারেশনের পর ভেতরে গজ ব্যান্ডেজ রেখে পেট সেলাই করে দেয়ার ঘটনাটি ঘটে মাদারীপুরের নিরাময় ক্লিনিকে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই প্রসূতির নাম সোফিয়া বেগম (৪০)। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের চরফতেবাহাদুর গ্রামের তোতা হাওলাদারের স্ত্রী। সোফিয়ার আগেও দুইটি বাচ্চা আছে যা স্বাভাবিক ভাবে প্রসব (নরমাল ডেলিভারী) করেছেন। তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় সিজার করা হয় তার পেটে।

সোফিয়ার স্বামী তোতা হাওলাদার জানান, ৬ মাস আগে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মাদারীপুরের নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করান স্ত্রীকে। সেখানকার ডাক্তার রুনিয়া নামে একজন চিকিৎসক তাকে দেখে বলেন জরুরী সিজার করতে হবে। ডাক্তারের কথা শুনে সিজারে রাজী হলে সেদিনই সিজার করে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন সোফিয়া। এরপর থেকে সোফিয়ার পেটে ব্যাথা হতে থাকে। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পর অপারেশনের ক্ষত থেকে পুজ বের হতে থাকে। আবারো ওই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে পেটে প্রথমে ইনফেকশন পরে টিউমার এর কথা বলে আবারো হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।

তোতা হাওলাদার আরো বলেন, এরপরেও তার স্ত্রী সুস্থ্য না হওয়ায় মাদারীপুরেই অপর এক গাইনী চিকিৎসককে দেখায় ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তারপর যান ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে। এরপর বরিশাল হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও স্ত্রীর রোগ ধরতে পারেনি, সুস্থ্যও হননি। এরপর গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে তার পেটে অপারেশন করে ৬ মাস আগের অপারেশনের গজ বের করা হয়।

বেসরকারী ওই হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলুল হক শোভন বলেন, ওই নারীর পেট থেকে পুঁজ আর তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। রোগীর পেটের ভেতরে নাড়িতে পচন ধরেছে। তার অবস্থা এখন খুবই ক্রিটিক্যাল। এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না।

0Shares

আরো সংবাদ