পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরছাড়া তরুণদের জড়ো করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ। তারা আগ্নেয়াস্ত্র চালানো, বোমা তৈরিসহ পাঁচ ধরনের প্রশিক্ষণ দেয় তরুণদের। প্রশিক্ষণ শেষে নাশকতা ও সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ সাত জঙ্গি ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় কেএনএফের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৫০ জনের বেশি জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশিক্ষণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
আল মঈন জানান, হরকাতুল জিহাদ, জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসার আল ইসলামের বেশ কিছু সদস্য ২০১৭ সালে নতুন করে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেন। পরে এই তিনটি সংগঠনের কিছু সদস্য ২০১৯ সালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া (যার বাংলা অর্থ—পূর্ববর্তী হিন্দের সাহায্যকারী দল) নাম দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিকভাবে উগ্রবাদী এ সংগঠনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের লক্ষ্য বানান। এরপর তাদের বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের ভিডিও ও ধর্মীয় বিষয়ের অপব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। তরুণদের সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে উৎসাহী করে তুলতে বিভিন্নভাবে মগজধোলাই করা হতো।
যে তরুণেরা পরিবার ছেড়ে আসতেন, তাদের পটুয়াখালী, ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। সেখানে তরুণদের বিভিন্ন সেফ হাউসে রেখে বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও জঙ্গিবাদ-বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এছাড়া আত্মগোপনে থাকার কৌশল হিসেবে তাঁদের রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
এদিকে তাদের আটক করার পর শুক্রবার রাতে সাত টার দিকে উগ্রবাদী ও তিন কেএনএফ সদস্যকে রাঙ্গামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তারের আদালতে তাদের হাজির করা হলে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
কোর্ট পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সাত উগ্রবাদী ও তিন কুকি-চীনের সদস্যকে রাঙ্গামাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। দুয়েক দিন পর আবারো আদালতে হাজির করে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।
তিনি জানান, এর আগে বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে র্যাবের অভিযানে নতুন উগ্রবাদী সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’ ও কুকি-চীন ন্যাশনাল পার্টির (কেএনএফ) সদস্যদের আটকের পর শুক্রবার সকালে বান্দরবানে সদরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে তাদেরকে র্যাব ও পুলিশের প্রহরায় রাঙ্গামাটিতে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টায় তাদেরকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য, র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫-এর অভিযানে সাত উগ্রবাদী ও তিন কেএনএফ সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানকালে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে অস্ত্র গোলা বারুদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এসএস