সকালেরসময় রিপোর্ট:: টানা বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রামের জনজীবন। নিচু এলাকায় বাসা-বাড়ি দোকান পাঠে পানি ঢুকে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি, বীজ তলা ও চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশংকা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে ২৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর ও নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা ।
হঠাৎ বর্ষণে চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ নিচু এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানি ঢুকেছে বাসা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অফিস-আদালতে। পানির হাত থেকে বাসা বাড়ির আসবাবপত্র, দোকান পাঠের মালামাল বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেককেই।
অপরদিকে অক্সিজেন, হামজারবাগ, মুরাদপুর, আতুরার ডিপো, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ এলাকায় মুল সড়কের উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়ায় এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ। অতি বৃষ্টির কারনে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ উপজেলায় ক্ষেত ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সড়কে পানি উঠায় বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের সাথে বান্দরবান এবং ফটিকছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ।
টানা বৃষ্টিতে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, মীরসরাই, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ির একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওইসব উপজেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি, বীজ তলা ও চিংড়িঘের, গৃহপালিত পশুসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তলিয়ে গেছে।
এই দিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতকানিয়ার বাজালিয়ায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কে পানি জমে সারাদেশের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়েছে যাত্রীবাহী অনেক গাড়ি।