চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশে নেতাদের দ্বন্দ্ব, চেয়ার ছোড়াছুড়ি


১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৯:০৪ : অপরাহ্ণ

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে চট্টগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে দুই গ্রুপের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নাসিমন ভবনের নগর বিএনপি কার্যালয় চত্বরে দল পুনগর্ঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্য রাখতে মাইকে নাম ঘোষণা করছিলেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর। এ সময় নগর বিএনপি যুগ্ম নাজিমুর রহমানের নাম ঘোষণা হলে বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি। এরপর মাইকে দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তারের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনিও বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দোটানায় পড়েন। এক পর্যায়ে আবুল হাশেম বক্কর তাকে দর্শক সারি থেকে মাইকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর জের ধরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ ঘটনাকে হামলা দাবি করে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান বলেন, ‌নগর বিএনপির বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার সুযোগে তারা স্বেচ্ছাচারি হয়ে উঠেছেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা মানছেন না তারা। সমাবেশে সিনিয়রদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিয়ম না মানায় আমরা সভায় বক্তব্য দিইনি। নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তারকে জোর করে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করায় অপ্রীতির ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‌‌আবদুস সাত্তার বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে বাধা দেন নাজিমুর রহমান। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তাদের সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়ান। এটি একান্তই তাদের ব্যাপার।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন দলটির নেতারা। এ সময় শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আওয়ামী লীগের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিজয়ের জন্য দোয়া-মোনাজাত করছেন।

সেখানে তিনি শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনতে বিএনপি-জামায়াতের দোয়াও চেয়েছেন। আমরা বুঝতে পারছি না, উনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, নাকি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি? তিনি শুধু আচরণবিধিই লঙ্ঘন করেননি, নির্বাচনী আইন ভেঙ্গে নিরপেক্ষতা হারিয়ে নির্লজ্জ দলবাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। যদি দলবাজি করতে হয় তাহলে চেয়ার ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিন।

হামলায় নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, যুবদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন সাইমুন, কাইয়ুম হোসেন রিপন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ