বিষয় :

যাকে আমার খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে


৫ জুন, ২০২৪ ৯:৩৭ : পূর্বাহ্ণ

আমি যাকে ঘিরে লিখছি—যাকে আমার খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, কেন জানি আমার মনে হয় যিনি আমাকে খুব পছন্দ ও দেখতে পারেন, তিনি হচ্ছেন মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়।

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয় সরকারী মুসলিম হাই স্কুল, সরকারী হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জি এস, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব অত্যান্ত সফলতার সহিত সম্পন্ন করেছেন।

আমি যতদুর জানি উনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি ( অনার্স) এমএসসি কোর্স সম্পন্ন করে উচ্চ শিক্ষা তথা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য সরকারী বৃত্তি নিয়ে বেলজিয়ামের একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের ভর্তি হন। সেখানে আরো চারটি বিষয়ের উপর উচ্চতর এমএস কোর্স সম্পন্ন করে পরিবেশ বিজ্ঞানের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

যেখানে একটি বিষয়ে অনার্স-মাষ্টার্স সম্পন্ন করতে একজন ছাত্রের কঠোর পরিশ্রম করতে হয় সেখানে দেখলাম চারটি বিষয়ের উপর মাষ্টার্স এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা কি ধরনের ব্রিলিয়েন্ট হলে এটা সম্ভব, এটা কিন্তু সাধারন বিষয় নয় মহা অসাধারণ। এটা ও আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ড. হাছান মাহমুদ যখন তৎকালীন সময়ে বিরোধী দলীয় আমাদের দলীয় প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার পিএস ছিলেন তখন তিনি আমাকে তার একটা ভিজিটিং কার্ড দিয়েছিল সেটার বদৌলতে।

পরবর্তীতে দেশে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা (যখন প্রিয় নেত্রী ছিলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী) তখন একান্ত সচিব হিসাবে নিয়োগ পান এবং অত্যান্ত সফলতার সহিত দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন, এর পর আসলো ১/১১ তৎকালীন সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার। এর এক পর্যায়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করলেন।

তখন আওয়ামীলীগের অনেক নেতা কর্মী ফখরুদ্দিন সরকারের চাপে মাইনাস-টু-ফরমুলায় যোগদেন। এই চরম দুঃসময়ে প্রিয় নেতা ড.হাছান মাহমুদ এমপি ফখরুদ্দিন সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে জেল- জুলুম, হুলিয়া মাথায় নিয়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিনিয়ত জেলখানায় গিয়ে দেখাশুনাসহ নেত্রীর মুক্তির জন্য বর্হিবিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগসহ প্রিয় নেত্রী এবং নেত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দলের জন্য এবং নেত্রীর মুক্তির যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করেন।

এক পর্যায়ে নেত্রীকে কারামুক্ত করণে সফল হন। করেছেন নেত্রীর আস্থা অর্জন। এর পর ফখরুদ্দিন সরকারের চাপে প্রিয় নেত্রীকে নিয়ে দেশের বাইরে আমেরিকায় চলে যান। আবার ২০০৭ সালে ১/১১ ফখরুদ্দিন সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রিয় নেত্রী দেশে ফিরে আসেন সাথে একসাথে দেশে ফিরেন ড.হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়। এরপর নেত্রীর সাথে একান্ত সচিব হিসাবে নেত্রীর সাথে দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

এরপর ফখরুদ্দিন সরকারের অধীনে তিন মাসের জায়গায় সুদীর্ঘ তিন বছর পর দেওয়া নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলো। ড. হাছান মাহমুদ এমপি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঠাই পেলেন মন্ত্রীসভায় প্রথম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এরপর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। পরে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরবর্তী নির্বাচনে আবার ও সাংসদ হয়ে নিযুক্ত হন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। পরবর্তী এবার ২০২৩ সালে নির্বাচনে আবার সাংসদ হয়ে নিযুক্ত হন মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

এর মধ্যে নিজের সততা, শ্রম, মেধা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মননে আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। অত্যান্ত সফলতার সহিত দায়িত্ব পালনে পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গুলোতে সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, এবং সর্বশেষ সম্মেলনে আওয়ামীলীগের ১ম যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে চলেছেন।

আজ এই প্রিয় নেতার রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা দেশ ছাড়িয়ে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে ও নিজস্ব প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দেশের ভাব মূর্তি আরো উজ্বল করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতায় ছুটে চলেছেন বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের বিভিন্ন দেশে। আদায় করেছেন বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের বাঘা বাঘা ৮২ টি দেশের সমর্থন, এবং দেশি বিদেশি বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ সাহায্য সহযোগিতা।

আমি দেখেছি যখনি চট্টগ্রাম এসেছেন বিভিন্ন সভা, সমাবেশ অনুষ্ঠান শেষ করে গভীর রাত অবধি দলীয় নেতাকর্মীদের অভাব, অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দিয়েছেন এগুলো করতে করতে কখন ভোরের ফজরের আযানের ধ্বনি কানে আসছে সেদিকে ও তার খেয়াল নেই। দেখেনি কখনো বিরক্ত হতে। সব সময় দেখতাম প্রচন্ড ধৈর্য্য শক্তি, ঠান্ডা মাথায় কাজ করা। দেখিনি নেতা কর্মীদের সাথে দূর্ব্যবহার করতে, বিরক্তি ভাব প্রকাশ করতে, দেখিনি ক্লান্তিবোধ।

শুধু দেখেছি গরীব, দূঃখী, অসহায় মানুষের জন্য নিজের দুহাত উজাড় করে দিতে। অবশ্য এ ধরনের আরেক জন প্রিয় নেতা দেখেছি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ভাইকে। আবার দেখেছি এখনো মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশা পাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগে ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানের উপর খন্ডকালীন অধ্যাপনায়।

যখন সময় পান ছুটে আসেন চট্টগ্রাম এবং নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সফলতার সহিত দেশের জনসাধারন এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি দিন দিন সমুজ্বল করে চলেছেন। আস্থা অর্জন করেছেন প্রিয় নেত্রীর। হয়ে উঠেছেন নেত্রীর বিশ্বস্থ সহচর।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে প্রিয় নেত্রীর একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে, সহযোদ্ধা হিসেবে দেশ এবং দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন, ক্ষুদা, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে প্রিয় নেত্রীর সাথে এক যোগে কাঁধে কাধ মিলিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। নিরহংকার, সৎ, ত্যাগী, আদর্শ, পরিশ্রমী, দলীয় স্বার্থে আপোষহীন, অত্যান্ত সাদা মনের মানুষ, মেধা, মনন, প্রজ্ঞায় আপন আলোয় আরো উদ্ভাসিত হউক চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে বার বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (এমপি) মহোদয়।

যার মতাদর্শ থেকে অনেক কিছু শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। এই রকম একজন প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক নেতার অনুসারী হয়ে আমি মনে করি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। আশা রাখি আপনার ছায়াতলে আপনার সারাদেশে কোটি কোটি অনুসারী নেতা-কর্মীর মধ্যে আমি একজন নগন্য কর্মী হয়ে বেঁচে থাকি।

পরিশেষে আপনার সু-স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি। মহান আল্লাহ পাক আপনাকে পৌঁছে দিক আপনার চুড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যে। মহান আল্লাহ পাক আপনার সহায় হউক আমিন।

লেখক—এসএম আহসানুল কবির চৌধুরী (টিটু)
(ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক), সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ তাঁতীলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর।
সদস্য,আহবায়ক কমিটি, ১৭ নং পশ্চিম বাকলীয়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর।
সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক ইনফো বাংলা।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ