সকালেরসময় বিনোদন ডেস্ক:: ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসা যেন হয়েছে পবিত্র। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের এই উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছে। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসা যেন পেয়েছে নতুন রুপ। এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়।
মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হয়েছে সবাই। চলছে উপহার দেয়া-নেয়া। চট্টগ্রামে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটিয়েছে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরাও নাকি তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে।
২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন।
দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে ক্রমে সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
ভ্যালেনটাইনস ডে উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পার্ক, রেস্তোরাঁ, পাঁচ তারকা ও তিন তারকা হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মহাধুমধামের সাথে বৃহস্পতিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের নানা আয়োজন পালন করা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্র ফয়’স লেক রিসোর্ট, বোট ক্লাব, চারুকলা কলেজ, ওয়েল পার্কসহ অভিজাত আবাসিক হোটেলগুলোতে এই দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। ভালোবাসার ছবি নিয়ে চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্রে ছিল দিনব্যাপী প্রদর্শনী।
নগরীর চেরাগী পাহাড়, মোমিন রোড, লালদীঘির পাড়, বিভিন্ন ফুলের দোকান, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, সেন্ট্রাল প্লাজা সানমার সিটিসহ অভিজাত সব বইয়ের দোকানে প্রিয়জনকে উপহার দিতে তরুণ-তরুণীদের ফুল ও বই, গিফট বক্স, কার্ডসহ নানা উপহার কিনতে দেখা গেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারির সকাল থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ডিসি হিল, ওয়ার সেমিটারি, সিআরবি ৭ রাস্তার মোড়, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, জিয়া কমপ্লেক্স, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, সি ওয়ার্ল্ড, বাটালি হিল, শাহ আমানত সেতু, আগ্রাবাদের জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘর, রেলওয়ে জাদুঘর, টোল রোড, নেভাল একাডেমিতে তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এই দিনটি।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে পতেঙ্গার বোট ক্লাব জেটি থেকে ওয়েস্টার্ন ক্রুজ জাহাজে চড়ে কর্ণফুলীর মোহনায় সূর্যাস্ত এবং নগরীর রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করেছে অনেকে। চট্টগ্রাম চারুকলা শিক্ষার্থীরা জানান, ভালোবাসা ও ফুল যেন একই সূত্রে গাঁথা। পবিত্র এ ভালোবাসা প্রকাশ করতে ফুলের চেয়ে ভালো উপহার আর কি হতে পারে! তাই প্রিয় মানুষটিকে ফুল আর চকলেট উপহার দিয়েছে সকলে। চেরাগীর মোড়ে এক ফুল দোকানি বলেন, বছরের অন্যান্য দিনের চেয়ে এবার সবচেয়ে ফুল বেশি বিক্রি হয়েছে।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা ছিল পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু, আগ্রাবাদ হোটেল, হোটেল দি পেনিনসুলা, সেন্টমার্টিন হোটেল। ভালোবাসার জুটিদের জন্য সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিলাসবহুল সেবার আয়োজন করা হয়েছে এখানে। এ ছাড়াও নানা ধরনের ভ্যালেন্টাইন থিমের মেন্যুও ছিল এই আয়োজনে, যা মুগ্ধ করেছে ভালোবাসার তরুণ-তরুণীদের। ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের জীবনে জাদুর মতো কাজ করে। ম্যাজিক শব্দটি ভালোবাসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তাই ভালোবাসার দিবসকে ম্যাজিকাল এক অনুভূতি দিতে হোটেল দি পেনিনসুলায় আয়োজন করছে ম্যাজিকাল ভ্যালেন্টাইন্স ডে নাইট। মনমাতানো লাইভ মিউজিকে জেগে উঠছে ভালবাসার অনুভূতি। ঝির ঝিরে বাতাসে খোলা আকাশের নিচে অসংখ্য তারার মাঝে ছিল বুফে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার। একের পর এক অভাবিত র্যাফেল ড্র প্রিয়জনকে করেছে আরও মুগ্ধ। সব শেষে ছিল স্বর্গের ঝরে পড়া রোমান্টিকতার ভুবনে গড়া আফটার পার্টি ডিজে।