বিষয় :

নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যেই মন কেড়েছে ‘শুভলং’


২৭ মার্চ, ২০১৯ ১২:১০ : পূর্বাহ্ণ

সকালেরসময় বিনোদন ডেস্ক:: নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের অপার আঁধার, পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। তাই পার্বত্য শহর রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় একটি নাম। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভামনাময় জেলা রাঙামাটি জেলা। এখানের পর্যটন স্পটে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করে। রাঙামাটি বেড়াতে এসে কখনো মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছে কেউ এমন নজির নাই বললেই চলে। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই অঞ্চল। প্রকৃতির কোমল পরশে সজীব হয়ে ওঠে পার্বত্য প্রকৃতি। আর সেই দৃশ্য নয়নভরে উপভোগ করতে বেড়াতে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

এখানে রয়েছে প্রকৃতির অসাধারণ উপহার ‘শুভলং ঝরনা’। রাঙামাটি সদর থেকে শুভলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট ও রাঙামাটির বিভিন্ন স্থান থেকে স্পিড বোট ও নৌযানে করে সহজেই শুভলং যাওয়া যায়। কাপ্তাই লেক ঘুরতে হ্রদে দেশীয় ইঞ্জিনচালিত বোট অথবা স্পিড বোটে চড়ে বেরুলে প্রথমেই চোখ যাবে পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা শুভলং ঝরনার দিকে। বোটে করে শুভলং যাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে যে কয়েকটি পাহাড়ি ঝরনা বা ঝিরি রয়েছে তার মধ্যে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত শুভলং ঝরনা অন্যতম। মূলত পাহাড়ি সবুজের মাঝে বিস্ময় হয়ে থাকা এই ঝরনাটি তার উচ্চতা ও অবিরাম জলস্রোতের কারণেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। শুভলং ঝরনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, একক কোনো ধারায় না পড়ে এই ঝরনাটি তার উঁচু অবস্থান থেকে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি ধারায় একই সমান্তরালে নেমে আসে।

ফলে ঝরনা থেকে পড়া পানির ধারাটি এক অপূর্ব সৌন্দর্য্যের জন্ম দেয়। আর এ কারণেই বড়কল উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮টির মতো ঝরনা থাকলেও এই ঝরনাটি দেখতেই বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। তাছাড়া এই ঝরনাটির পানির উপর থেকে পতনের সময় খুব সীমিত জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে পর্যটকরা ঝরনাধারা উপভোগ করতে পারেন বেশ কাছ থেকেই। ভরা বর্ষা মৌসুমে মূল ঝরনার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নীচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মুর্ছনায় পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ঝরনার এই সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দিতে যথেষ্ট। পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি পাথরে মাটিতে আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য না দেখলে বলে বোঝানোর নয়। ইচ্ছে করলে স্নান করতে পারেন ঝরনার শীতল পানিতে। ক্যামেরা দিয়ে ঝটপট তুলে নিতে পারেন দুর্লভ কিছু ছবিও। ঝরনা দেখা শেষ হলে কিছুক্ষণের জন্য শুভলং বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেই ক্যান্টিনটির নামও শুভলং।

চাইলে সেখানে সেরে নিতে পারেন চা-নাস্তা পর্ব। তবে শুভলং এলাকায় থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং আপনাকে দিনে দিনেই ফিরে আসতে হবে। তাছাড়া ওখানে ভানো কোন খাবার হোটেলও নেই। তাই খাবার আপনারা সঙ্গে নিয়ে নিলেই ভালো। শুভলং ঝরনার প্রায় কাছাকাছি অবস্থিত ২ হাজার ২০০ ফুট উঁচু ‘শুভলং পাহাড়’। পাহাড় শীর্ষে রয়েছে সেনাক্যাম্প ও টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার। পাহাড়ে ওঠার জন্য চমৎকার সিঁড়ি কাটা আছে।

ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের জন্য পাহাড় শীর্ষ থেকে চারপাশের অপরূপ দৃশ্য আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কবি মনটিকে জাগিয়ে তুলবে তা নিশ্চিত। আর হ্যাঁ, শুভলং এলে সঙ্গে ক্যামেরাটি আনতে ভুলবেন না যেন, তা না হলে কিন্তু বঞ্চিত হবেন জীবনে দেখা প্রিয় এক মুহূর্তের স্মৃতি ধরে রাখতে।

0Shares

আরো সংবাদ