সকালেরসময় সিলেট প্রতিনিধি:: মেয়ের চেহারায় আতঙ্কের ছাপ দেখে কারণ জানতে চাইলে সে ঘটনা খুলে বললে তারপর ধর্ষিতার বাবা বলেন,আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে তার নানির চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রের ফাইল দেখার কথা বলে রাত ১টার দিকে নিজের রুমে ডেকে নেয় ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহী (৩০)। এ সময় সে আমার মেয়েকে তার রুমে জোর করে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে চিৎকার করলেও কেউ তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসেনি। এমনকি আমার মেয়ে যখন কান্নাকাটি করছিল তখন ওই চিকিৎসক এ বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়। এরপর থেকেই মেয়েটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়ে।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা স্কুলছাত্রীর বাবা সকালেরসময়কে,এসব কথা বলেন। রবিবার (১৫ জুলাই) রাত ১টার দিকে ওসমানী মেডিক্যালের নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহী নবম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ মাহীকে আটক করেছে।
সোমবার (১৬ জুলাই) ওই স্কুলছাত্রীর বাবার সঙ্গে ওসমানী মেডিক্যাল এলাকায় কথা হয় সকালেরসময় প্রতিনিধির। তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আমি আমার বৃদ্ধা শাশুড়িকে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের তৃতীয় তলার ৮নং ওয়ার্ডের ১৭নং বেডে ভর্তি করি। এরপর শনিবার (১৪ জুলাই) রাতে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। শাশুড়িকে দেখভাল করার জন্য আর কেউ না থাকায় আমার মেয়েকে সেখানে পাঠাই। এরপর রবিবার (১৫ জুলাই) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, ওই দিন ৮নং ওয়ার্ড ও ৭নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিল নাক-কান-গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহী। ৮নং ওয়ার্ডে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিদর্শন করার সময় সে আমার মেয়েকে তার নানির চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ৭নং ওয়ার্ডে তার কক্ষে যাওয়ার কথা বলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে মেয়েটির বাবা বলেন, আমি ওই চিকিৎসকের বিচার চাই। আমার মেয়ের যে ক্ষতি হয়েছে তা আর পূরণ হওয়ার নয়। কী হবে আমার মেয়ের?
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর তার বাবা তাকে নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে যান এবং মাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে পরিচালক ওই চিকিৎসককে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতালের আরও কয়েকজন চিকিৎসকও ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাহী প্রথমে অস্বীকার করেন। ভিডিও ফুটেজে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- একজন চিকিৎসকের এমন হুমকির পর ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরী তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেন। এদিকে, কিশোরীর কথা শুনে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালের ওসিসি (ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সার্ভিস) সেন্টারে পাঠান চিকিৎসকরা। এ সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিভূতি ভূষণ ব্যানার্জির নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীর হাসপাতালের পরিচালকের কাছে যান। এ সময় তারা প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা এ বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মাহীকে আটক করে। পুলিশ জানায়, ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহীর বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। তার বাবার নাম মোখলেসুর রহমান। তিনি ওসমানী মেডিক্যালের জিয়া হোস্টেলের ২১৪নং কক্ষে বসবাস করছেন। আর ওই স্কুলছাত্রী তার পরিবারের সঙ্গে সিলেট মহানগরীতেই থাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে নিয়োগ পান ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহী। নিয়োগের ১৮ দিনের মাথায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলো। ইন্টার্ন চিকিৎসক মাহী বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। নাক-কান-গলা বিভাগের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, রবিবার রাত থেকে মাহী তার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডেই ছিলেন। অন্যান্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি আর বাইরে বের হননি। এরপর সোমবার (১৬ জুলাই) সকালে তাকে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিয়ে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যায়। অন্যান্য চিকিৎসকদের কাছে মাহী দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম মাহবুবুল হক বলেন, ওই মেয়েটিকে হাসপাতালের ওসিসিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে বিস্তারিত জানার পর ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিষয়ে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সিলেট কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর সকালেরসময়কে জানান, পুলিশ ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহীকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়ারর পর ।
চিকিৎসক মাহী কারাগারে, ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার…
সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহীকে (৩০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৬ জুলাই) স্কুলছাত্রীর বাবা কোতোয়ালি থানায় মাহীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-২৬)। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক মোসতাইন বিল্লাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাওসার দস্তগীরর সকালেরসময়কে বলেন, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ওসমানী মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাহীর বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রবিবার (১৫ জুলাই) রাত ১টার দিকে ওসমানী মেডিক্যালের নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মাক্কাম আহমদ মাহী নবম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনায় মাহীকে আটক করে পুলিশ।