বিষয় :

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)


৯ অক্টোবর, ২০২২ ১২:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ রোববার সারা দেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মুসলিম উম্মাহ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুদিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

দিনটি পালন করতে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন এবং দেশের মুসলমানরা এ দিন বিশেষ ইবাদত করেন। দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা, কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদরাসা। বিভিন্ন সংগঠন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে জশনে জুলছ আনন্দ র‌্যালী বের করবে।

সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের কাছে ১২ রবিউল আউয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণময় দিন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই দিনকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহানবী ও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মা আমিনার কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন।

আবার তিনি মাত্র ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহপাক মুহাম্মদ (সা.) কে মানব জাতির জন্য রহমত স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। মহানবী সা. এসেছিলেন তাওহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তার আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাহানে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।

এর আগে বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার উদ্বোধন করেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী।

অন্যদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০ টি ইসলামিক মিশন ও ৭ টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে বয়ান করবেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)’র আদর্শ ও বিচক্ষণতা বর্তমান বিশ্বে জাতিতে জাতিতে সংঘাত-সংঘর্ষ নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র জন্ম ও ওফাতের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। মহান আল্লাহ তা’আলা হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে ‘রহমাতুল্লিল আলামীন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এই দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ্ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ্ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন।

এছাড়া বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিবৃতিতে দিয়েছেন।

এসএস

0Shares

আরো সংবাদ