বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভুয়া সিল বানিয়ে কাউন্সিলের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার অভিযোগ তদন্তে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিজয় নগরে অবস্থিত বিএনএমসির কার্যালয়ে হঠাৎ অনুসন্ধানে যান দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। প্রায় এক ঘণ্টা বিএনএমসির কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় ভুয়া বিল বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎতে জড়িতদের সঙ্গে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ ব্যাপারে দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, নার্সিং কাউন্সিলে ভুয়া বিল বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। বিলের কাগজ পত্র দেখতে নার্সিং কাউন্সিলের কার্যালয়ে যাওয়া। অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো হবে।
গত বছর ২৩ নভেম্বর ‘ভুয়া বিল বানিয়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সমকাল। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তার কয়েকদিন পর ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে।
অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলার তথ্য গোপন করে তাকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পাওয়াসহ। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অনুসন্ধান দুদক গত ৯ মে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে রাশিদা ও তার স্বামী সহিদুল ইসলামের রেকর্ডপত্র চেয়ে নোটিশ পাঠান।
ইতোমধ্যে সাড়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য মিলেছে ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদার বিরুদ্ধে। এমনকি তার বেতন এই টাকা কেটে রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নোটিশে বলা হয়, রাশিদার নামে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি নার্সিং কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রাশিদা ও তার স্বামী সহিদুলের নামে থাকা বাড়ি, গাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাটসহ এ সংক্রান্ত তথ্য দরকার। তাদের নামে এ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে তা গত ৩০ মে’র মধ্যে দুদকে পাঠাতে অনুরোধ জানানো হলো।
জানা গেছে, দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর কিছু তথ্য দুদকে পাঠানো হয়েছে। পুরো তথ্য পাওয়ার পরই তা পর্যালোচনা করে কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালে রাশিদাকে নার্সিং কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলা ছিল। এসব মামলার তথ্য গোপন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি।
পরে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে গত ১৪ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনএমসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।
সূত্র—এসকে/এসএস/এমএফ