ঠিকাদার অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরায় সর্বনাশ রাঙামাটি এলজিইডি!


২৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১২:১৪ : পূর্বাহ্ণ

এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পার্বত্য রাঙামাটির প্রকৌশলীগণ। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমন কোনো প্রকল্পের কাজই যথাসময়ে শেষ করতে পারছে না সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ে শেষ না করে কাজ বন্ধ রাখায় এরই মধ্যে একটি প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার জন্য ২৮ দিনের সময় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একই সড়কে আরও চারটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এমন অবস্থায় প্রকল্পগুলো আগামী দুই/তিন বছরেও সমাপ্ত হবে কি না সেটা নিয়ে খোদ এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফিও সন্দিহান। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক অধিবাসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার বিলাইছড়িকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৪ মে একনেক সভায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও ১২টি সেতু নির্মাণে ৩৩৮ কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্প পাস হয়। জেলার কারিগর পাড়া হতে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৫টি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে ২০২২ এর ১৭ আগস্ট রাঙামাটি এলজিইডির সঙ্গে চুক্তি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। সেই চুক্তি অনুযায়ি কাজ বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে গত এক মাস আগে (১৬ মার্চ ২০২৪)।

তবে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। এখনও ৬৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। এর-ই মধ্যে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি হতে কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আছে। তবে এর আগেই প্রতিটি কাজের অনূকূলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুল পরিমান অর্থ (বিল) ছাড় দিয়েছে রাঙামাটি এলজিইডি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই নিজে কাজ না করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভাড়ায় দিয়ে কাজ করছে। আর এদিকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে (পার্বত্য শান্তি চুক্তির শর্তানুসারে উপজাতিদের কর মুকুপের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে) একদিকে সরকারের চার শতাংশ আয়কর ফাঁকি দিয়ে চলছে অনন্ত বিকাশ। অন্যদিকে উপজাতি সাইন বোর্ড ব্যবহার করে অফিসকে ম্যানেজ করে কাজের বিল নিয়ে কাজ না করে নিজেদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে ব্যক্তি।

আর এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তায়ন সমাপ্ত না করার কারণে সময়ের সাথে প্রতিটি কাজে রাষ্ট্রের ব্যয় কয়েকগুন বেড়ে যায়। যদিও কাজ নিজে না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্যকাউকে ভাড়া দেওয়া বা উপ ঠিকাদার নিয়োগ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি গোলাম মওলা মুরাদ।

জেলার কারিগর পাড়া হতে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা ভাড়ায় ব্যবহার করা ব্যবসায়ি সাহিদুল আমিন এই বিষয়ে কোনো কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার মালিক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য মিলেনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে যে কোনো ভাবে সহযোগিতা করে হলেও কাজ বাস্তবায়ন করা। জেলার কারিগর পাড়া হতে বিলাইছড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাপ্তাই অংশ (টেন্ডার আইডি নাম্বার- ৭০০৪৬৮) কাজ বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে প্রকল্পের নির্ধারিত সময় সীমা শেষ হয়ে গেছে। তাই আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮দিনের সময় দিয়ে চুক্তি বাতিলের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছি।

আহমদ শফি আরও বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, যেহেতু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৫ শতাংশ। এমতাবস্থায় চুক্তি বাতিল করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ খোলা নাই।

তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্তি ও জামানত বাজেয়াপ্ত বিধান রয়েছে। তাছাড়া সরকারের উন্নয়ন কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলাসহ ফৌজদারী অপরাধে মামলাও হতে পারে।

এসএস/ফোরকান

0Shares

আরো সংবাদ