প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সড়কে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ঈদে যাত্রী সেবা শুরুর প্রথম দিনই শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন। যারা ২২ মে আগাম টিকিট কেটেছেন, তারাই গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করছেন।
এটি ছিল এই ঈদে আগাম টিকিটের প্রথম যাত্রা। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এদিকে দেশের ব্যস্ততম নৌরুট মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটেও নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। তবে তেমন ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
ঈদের ছুটি কাটাতে বৃহস্পতিবার থেকেই পরিবার নিয়ে রাজধানীছাড়তে শুরু করেছেন মানুষ। এই যাত্রা ছিল মূলত বাস, লঞ্চে ও ট্রেনে। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও যানজট ছিল না। ফলে মানুষ স্বস্তিতে ফিরতে পেরেছেন গন্তব্যে।
তবে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলঘরে আগের রাতে উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোকে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে সকাল ১১ টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঈদে কত লোক ঢাকা ছাড়ছে-এর সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব নয়। তবে নগরীর বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ এবং মহানগর পুলিশের মতে, এবার ৬০ থেকে ৬৫ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। এরমধ্যে ৭ হাজার বাসে যাচ্ছে ৩০ লাখ। এছাড়া ট্রেনে ২০ লাখ এবং নৌ ও আকাশ পথে যাচ্ছে ১৫ লাখ মানুষ ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ঈদে সড়কে যানজটের তেমন আশঙ্কা নেই। এবারের মত ভালো রাস্তা এর আগে কখনো ছিল না। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল দেশের কোনো সড়কে বড় ধরনের কোনো যানজট ছিল না। তবে রবিবার এবং সোমবার সড়কে পরিবহনের চাপ বাড়বে। ফলে কিছুটা যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। অবশ্য তা খুব একটা অসহনীয় হবে না বলে তার প্রত্যাশা।
ট্রেনে উঠতেই ৫ ঘন্টা!
গতকাল সকাল ৯টায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ছেড়ে যায় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে। এতে ৫ ঘন্টারও বেশি সময় স্টেশনে দুর্ভোগ পোহান যাত্রীরা। এছাড়া কমলাপুর থেকে রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, ছেড়ে যায় সাড়ে ৮টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়ে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও কমলাপুর ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৮টায়। সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ছেড়ে যায় সাড়ে ৭টায়।
বিলম্বের বিষয়ে কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, যে ট্রেনগুলো দেরিতে কমলাপুরে পৌঁছেছে, সেই ট্রেনগুলো ছাড়তেই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে চেষ্টা করছি ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখার।
রংপুর এক্সপ্রেসের শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার ঝড়ের জন্য তিন ঘন্টা ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে এ গ্যাপটা কাভার করা যায়নি। এ কারণে আজকে (শুক্রবার) যে ট্রেনটি আসছে, সেটি আমরা ধরে রাখব ঢাকায়। আগামীকাল (শনিবার) থেকে শিডিউল সমস্যা হবে না বলে আশা করছি।
রেলমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ..
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, কাল (আজ) থেকে এই সমস্যা হবে না। গতকাল শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন রেলমন্ত্রী। শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশেষ করে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ রয়েছে। তবে আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে থাকবে না। এদিকে ট্রেনের ছাদে এবার কোনোভাবেই যাত্রীরা উঠতে পারবেন না বলে সতর্ক করেছে রেল মন্ত্রণালয়।
যাত্রী কম বাসে..
বাসে তেমন যাত্রী নেই। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায় এবার প্রথম পছন্দ ট্রেন। গতকাল ঈদযাত্রার প্রথমদিন রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও গাবতলী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। গাবতলী টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের যাত্রীদের ডাকাডাকি করে টিকিট বিক্রি করতে দেখে গেছে। তারা বলছেন, এখনও স্বাভাবিক দিনের মতোই যাত্রী হচ্ছে। আসনও খালি যাচ্ছে। অধিকাংশ কাউন্টারের লোকজন অলস সময় কাটাচ্ছেন। যাত্রীরা টিকিটের দাম কমাতে কাউন্টারে দর-কষাকষি করছেন।
গতকাল ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকে শুরু হয় কর্মজীবী মানুষের ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পালা। বিকাল নাগাদ ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও এ মহাসড়কে কোনো যানজট না থাকায় যাত্রীরা ছিলেন স্বস্তিতে। এ সড়কে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব পালন করছেন সহস্রাধিক পুলিশ। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মহাসড়কে যানজট না থাকলেও কিছু এলাকায় ধীর গতিতে চলছে যানবাহন।
কন্ট্রোল রুম..
ঈদযাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পৃথক কন্ট্রোল রুম খুলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বিআইডব্লিউটিএর কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নম্বর হচ্ছে ০১৪০০-১৫০১৫০। ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০২৯৫৮২৩০৬। ঢাকাস্থ বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ৫৫০৪০৭৩৭ ও মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬।