ভুয়া সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে নিবন্ধন সনদ গ্রহণের অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুদকের উপ-পরিচালক মোছা. সেলিনা আখতার মনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সংস্থাটির পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার মো. জাহিদুল হক বসুনিয়া। বাকিরা হলেন- সাতক্ষীরার তালা থানার সুদেব সেন, টাঙ্গাইল কালিহাতীর তন্ময় আহমেদ, ভোলা দৌলত খানের মো. মাহমুদুল হাসান, চাঁদপুর মতল (উত্তর) এর মো. মোক্তার হোসাইন, ঢাকা সাভার এর মো. আসাদ উল্লাহ, গাজীপুর কালিয়াকৈরের মো. কাউসার, নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের রহমত আলী, বাগেরহাট সদর এর শেখ আতিয়ার রহমান, ফেনী দাগন ভূইয়ার মো. সাইফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সদর এর আসলাম হোসেন কুমিল্লা বড়ুরা থানার মো. ইমান আলী ও মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে ভুয়া সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন সনদ গ্রহণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৫/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত ভুয়া ডিগ্রিধারীরা চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন মর্মে জানান। তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া এমবিবিএস সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত রেজিস্ট্রেশন কোয়ালিফাইং পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ক্ষেত্রে তারা বিএমঅ্যান্ডডিসি কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মর্মে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন অনুশীলন করেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।
কিন্তু রেকর্ডপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, তাদের এমবিবিএস সার্টিফিকেটগুলো ভুয়া। সে মোতাবেক তাদের এমবিবিএস সনদের সঠিকতা যাচাই করার জন্য সনদগুলোর ছায়ালিপি দুদক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। এরই প্রেক্ষিতে চীনের বেইজিংস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওই সনদগুলো যাচাইপূর্বক বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক সেকশনে ২১-০১-২০১৯ তারিখে দুদকে রেকর্ডপত্র পাঠায়।
প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন তাইশান মেডিকেল ইউনির্ভাসিটি কর্তৃপক্ষের মতে উল্লিখিত ১২ জন এমবিবিএস ডিগ্রিধারীর এমবিবিএস সনদ ভুয়া।সনদগুলোর স্বাক্ষরের সত্যতা পরীক্ষার জন্য হস্তলেখা বিশারদের মতামত গ্রহণ করা হয়। তাতেও দেখা যায় সনদের স্বাক্ষরগুলোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
ওই ১২ জন ভুয়া এমবিবিএস সনদধারী কখনো চীনের তাইশান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেননি। কেউ কেউ কেবল ট্যুরিস্ট ভিসায় চীনে গিয়েছিলেন, সে দেশে থাকার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এদিকে বিএমঅ্যান্ডডিসি’র সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সতর্কতা বা নিয়মনীতির প্রতিপালন করেনি বলে এজাহারে বলা হয়।
এসএস