বিষয় :

বোরহানউদ্দিনে হতাহতের ঘটনায় যা বলছে পুলিশ


২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:২০ : পূর্বাহ্ণ

‘ফেসবুক পোস্টকে’ কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু ও অনেকের আহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে পুলিশ সদরদপ্তর, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ হতে একজন করে কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রবিবার (২০ অক্টোবর) রাতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোলার বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে দাবি করে ১৮ অক্টোবর রাতে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি জিডি করেন। ওই থানায় থাকা অবস্থায় তার মোবইলে একটি কল আসে, সেখানে এক ব্যক্তি তার কাছে এ ঘটনায় চাঁদা দাবি করে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওসিকে জানান বিপ্লব। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদার দাবির ঘটনায় এক ফেসবুক হ্যাকারকে আটক করে পুলিশ। ওই হ্যাকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শরীফ এবং ইমন নামে দুই মুসলিম যুবককে যথাক্রমে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ।

প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, হ্যাক হওয়া ওই যুবকের ফেসবুকে কথিত এক কমেন্টের জেরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে তারা ২০ অক্টোবর উপজেলায় প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিলে বোরহানউদ্দিন থানায় স্থানীয় আলেমদের নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তারা বিপ্লবকে আটক দেখান। এবং এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে আলেমরা তাদের প্রতিবাদ সভা বাতিল করেন।

প্রতিবাদ সভা বাতিল করা সত্ত্বেও কিছু লোক ২০ অক্টোবর উপজেলা ঈদগাহ মাঠে দলে দলে হাজির হতে থাকে। পরে এ ঘটনায় পুলিশও সতর্ক অবস্থানে যায়। এবং সেখানে পুলিশ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা বক্তব্যও দেন। এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। তারপরও তারা তা মানেনি।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ শুরু থেকে তৎপর থাকা সত্ত্বেও এবং আলেম সমাজ পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে কর্মসূচি স্থগিত করলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মকে পুঁজি করে অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলসহ সারাদেশে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে ও কোন অবস্থাতেই ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রোববার (২০ অক্টোবর) সকালে ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করে সাধারণ মানুষ। সভা শেষে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। অনুমতি না থাকায় তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাস ও পরে শট গানের গুলি ছোঁড়ে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহত হন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

0Shares

আরো সংবাদ