ক্যাসিনো অভিযান পরিচালনার সময় যেসব নগদ টাকা পাওয়া গেছে, সেসব টাকা আর করের আওতায় আনার সুযোগ নেই।
সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মোশারফ হোসেন ভূইয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালানোর আগে আমাদের জানা ছিল না দেশে জুয়া খেলা চলছে। এটি নজরে আসার পরপরই আমরা সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তাদের ক্যাসিনো সামগ্রী খালাস না করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। এখন কার্যত ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানি বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমদানি নীতিতে আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ক্যাসিনো যন্ত্রপাতি নেই। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে, এমন কোন পণ্য আমদানি করা যাবে না বলে সংবিধানে উল্লেখ আছে। সেই ধারা অনুযায়ী আমরা আপাতদৃষ্টিতে ক্যাসিনো সামগ্রী আমদানি বন্ধ করেছি। তবে চূড়ান্তভাবে এর আমদানি বন্ধের জন্য আমদানি নীতি সংশোধনের প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
ক্যাসিনো সামগ্রী চূড়ান্তভাবে আমদানি বন্ধের জন্য আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ক্যাসিনো যন্ত্রপাতি যুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তিনি আগামী সপ্তাহে চিঠি দেবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ক্যাসিনোর পণ্যগুলো আমদানি নীতিতে নিষিদ্ধ না থাকলেও আমাদের দেশে একটা আইন আছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিরাসহ ৮ জন এবং তাদের পরিবারের সদস্য মিলে মোট ২০ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন ছাড়া বাকিদের ব্যাংকের লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীতে শুরু হয়েছে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। এরই মধ্যে অবৈধ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আলোচিত কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।