বিষয় :

বনফুলের মালিক ও সাবেক এমপি মোতালেবের খোঁজে ছাত্রদের অভিযান


১০ মার্চ, ২০২৫ ৪:০০ : পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় মঙ্গলবার রাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক হানা দিয়ে লুটপাটের রেশ কাটতে না কাটতেই মিরপুর ডিওএইচএস-এ কথিত ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে।

অভিযানের লক্ষ্য ছিল বনফুলের মালিক ও চট্টগ্রাম সাতকানিয়া-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবকে খোঁজে বের করা। তবে ওই বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে কাউকে না পেয়ে ফিরে যান অভিযানকারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তারেক জামিল তাজের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন যুবক মিরপুর ডিওএইচএস-এর একটি বাসায় প্রবেশ করেন।

তাজ নিজেকে ‘পল্লবী থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক’ বলে পরিচয় দেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে ছাত্রদের এমন তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কেউ কোনো অভিযান চালাতে পারবে না।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তথ্য পাওয়ার পর ওই বাসায় যাই এবং ছাত্রদের চলে যাওয়ার জন্য বলি। পরে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সাবেক সেনা কর্মকর্তা কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। আমরা সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় শিক্ষার্থীরা বাড়ির মালিক ও স্থানীয় কমিটির সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করেন। তারা বাসার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সাবেক এমপি মোতালেবকে খোঁজ করেন। বাসার লোকজন জানান, তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি। বাসার ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি দেখে কেউ একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পল্লবী থানার এসআই হুমায়ুন আহমেদ বলেন, আমি পৌঁছানোর আগেই দলটি বাসায় ঢুকে পড়ে। বাসার মালিক বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায়। ছাত্ররা সেই বাসায় কাউকে পায়নি। পরে আমি সেটি ঊর্ধ্বতনদের জানাই এবং ওসি স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী ছাত্রদের চলে যেতে বলি। কয়েকজনকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে এলেও তাজসহ কয়েকজন সেখানে থেকে যায়। পরে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাজ গণমাধ্যমে দাবি করেন, এটি কোনো অভিযান ছিল না, তারা পুলিশকে জানিয়েই গিয়েছিলেন, তবে পুলিশ পরে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাবেক এমপি মোতালেবকে ওই বাসায় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও তিনি ছিলেন না। তাদের ধারণা, তারা পৌঁছানোর আগেই মোতালেব হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কেউ কোনো অভিযান চালাতে পারবে না। মব তৈরি করে অপরাধ হচ্ছে, তবে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার এ বক্তব্যের পরই ছাত্রদের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করল, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে এমন অভিযান হলো, এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় মঙ্গলবার রাতে হানা দিয়েছিল একদল বিশৃঙ্খল জনতা (মব)। এর নেতৃত্বে ছিলেন জুয়েল খন্দকার। তাকেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তিনটি গহনাও জব্দ করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসএস/এমএফ

0Shares

আরো সংবাদ