শুক্রবার বেলা ২টায় মারা যান তিনি। জানা যায়, বেলা দেড়টার দিকে কালিদাস কর্মকারকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় তার ইস্কাটনের নিজ বাসায়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে নিয়ে আসলে বেলা ২টায় তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
আরও জানা যায়, কালিদাস কর্মকারের দুই মেয়ে আমেরিকা থাকেন। তাই তারা না আসা পর্যন্ত মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হীমাগারে রাখা হবে। গ্যালারি কসমসের নির্বাহী শিল্প ব্যবস্থাপক সৌরভ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, কালিদাস কর্মকারের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হীমাগারে রাখা হবে। কারণ তার দুই মেয়ে আমেরিকা থাকে। তারা দেশে আসলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এদিন দুপুরে নিজের বাসার বাথরুমের ভেতর থাকা অবস্থায় হঠাৎ পড়ে যান শিল্পী। অনেকক্ষণ পর তাকে অচেতন অবস্থায় বের করে আনা হয়। ইস্কাটনের বাসা থেকে তৎক্ষনাত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় আধুনিক ঘরানার শিল্পী কালিদাস কর্মকার ১৯৪৬ সালে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি আঁকতে শুরু করেন। স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ১৯৬৩-৬৪ সালে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন।
পরে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট থেকে ১৯৬৯ সালে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। বড় ক্যানভাস ও ডিটেইল কাজের জন্য সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে বিশেষ আলোচিত ছিলেন তিনি।