সকালেরসময় রিপোর্ট:: আমি হয়ত বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী, কিন্তু একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা। আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। দেশে কম্পিউটার ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা, এর উপর থেকে ট্যাক্স তুলে দেওয়া, এসব আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে হয়েছে। সে তো একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
এভাবেই গর্ব ভরে ডিটিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলছিলেন প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা।২৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রবাসী প্রকৌশলীদের প্রথম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে প্রবাসী প্রকৌশলীদের অবদান রাখার আহ্বানও জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনীতিক নীতিমালা আমরা প্রণয়ন করি। সেই নীতিমালায় আমরা জাতির পিতার নির্দেশিত সংবিধান মোতাবেক বেসরকারি খাতকে আমরা বেশি গুরুত্ব দেই ও উন্মুক্ত করে দেই। এখন গার্মেন্টসে আমরা দ্বিতীয় ঠিক। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে একটা জিনিসের দিকে তাকিয়ে থেকে চলতে পারে না। রপ্তানিকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, সারা দেশে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে গেছে, হাইটেক পার্ক ও ডিজিটাল সেন্টারগুলোর সুফল পাচ্ছে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। এতে দেশে বাড়ছে সাক্ষরতার হার। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী হলেও এখন আমি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা। এ দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়াতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আমাকে সহযোগিতা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ অফিসে একটি কম্পিউটার কিনেছিলাম, তখন ওই কম্পিউটারে খরচ পড়েছিল তিন লাখ টাকা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য নেদারল্যান্ডের সঙ্গে ১০ হাজার কম্পিউটার ক্রয়ের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। তারা অর্ধেক খরচে আমাদের কম্পিউটার দিতে চাইলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলো।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাছে কে যেন বলেছে, এটা নেদারল্যান্ডের টিউলিপ কোম্পানি থেকে কেনা। ওই কোম্পানি শেখ রেহানার মেয়ের নামে, এ কথা শুনে খালেদা জিয়া প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। ফলে আমাদের অনেক টাকাও লস হয়েছে। এ ছাড়া তারা (বিএনপি) সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে না জানার কারণে বাংলাদেশকে তারা বারবার পিছিয়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা এমনকি থানা-ইউনিয়ন পর্যন্ত ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এখন কম্পিউটারে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে-মেয়েরাও এখন অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশ এখন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।