বিষয় :

আজ সেই ভয়াল ২৫শে মার্চ


২৫ মার্চ, ২০১৯ ১:২২ : পূর্বাহ্ণ

সকালেরসময় রিপোর্ট:: আজ ২৫শে মার্চ। ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের সেই ভয়াল কালরাত। সেদিন রাত বারোটার পর নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙ্গালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনী। চালায় নৃশংস গণহত্যা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সবকটি বড় শহরে নির্বিচারে গুলি চালায় পাকবাহিনী। এক রাতেই হত্যা করা হয় হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষকে। এরপরই শুরু হয় এদেশের মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির যুদ্ধ। একাত্তরের ২৫ মার্চ, মধ্যরাত। মূলত এই রাতেই শুরু বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রাম।

দেশজুড়ে চলছিল অসহযোগ আন্দোলন। সবার মুখে কেবল একটিই স্লোগান ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’ বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। এদিন, বঙ্গবন্ধুর সাথে সব আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর কাপুরুষোচিত হামলার নির্দেশ দিয়ে ঢাকা ছেড়ে যান পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো।

রাত ১১টার দিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে সশস্ত্র পাক হানাদার বাহিনী। বাঙালির স্বপ্ন মুছে দিতে শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ। মধ্যযুগীয় কায়দায় পাকবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো দেশেই চালায় নির্মমতা। এক রাতেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।

পঁচিশ মার্চ রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যখন পাক হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন মাত্র চল্লিশ মিনিটের প্রস্তুতিতে এখানকার পুলিশ বাহিনী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আর এতো প্রাণহানির পরও মুছে ফেলা যায়নি বাঙ্গালির স্বাধীনতার স্বপ্ন। বরং শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য লড়াই। দীর্ঘ ন’মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে লাখো শহীদের রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলার আকাশে ওড়ে স্বাধীনতার পতাকা।

 

0Shares

আরো সংবাদ